আইসোলেশনে হাঁপিয়ে উঠেছেন বলসোনারো

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২০, ০৯:২৭ এএম

করোনাভাইরাসের শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আইসোলেশনে থেকে হাঁপিয়ে উঠেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। জানিয়েছেন, এভাবে আর থাকতে পারছেন না তিনি, আবারও টেস্ট করাবেন।

সিএনএন ব্রাজিলকে টেলিফোনে ব্রাসিলিয়ার আলভোরাদা প্যালেস থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের সময় বলসোনারো কোয়ারেন্টাইনে থাকা নিয়ে এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

মঙ্গলবার আবারও করোনা টেস্ট করার কথা বলসোনারোর। এদিনই জানানো হবে টেস্টের ফল। ফের টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই অতি ডানপন্থী এই রাজনীতিকের।

“কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টেস্টের রিপোর্ট দেওয়া উচিত। আমি বেশ উদ্বেগের সঙ্গে অপেক্ষা করতে থাকব। কারণ বাড়িতে থাকার এই রুটিন আমি আর মেনে নিতে পারছি না। এটা ভয়ংকর।”

ব্রাজিলে করোনাভাইরাসের মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকেই বিষয়টিতে তেমন গুরুত্ব দেননি বলসোনারো। লকডাউন, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব এসবের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন তিনি। তার মতে, কভিড-১৯ ‘সামান্য ফ্লু’ জাতীয় রোগ। অঙ্গরাজ্যগুলো লকডাউনের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ায় গভর্নরদের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি বলসোনারো।

তবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও সাক্ষাৎকারে ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তার কোনো শারীরিক সমস্যা নেই, ‘খুব ভালো’ বোধ করছেন। জ্বর নেই, শ্বাসকষ্ট নেই; এমনকি মুখের রুচিও হারাননি বলে জানিয়েছেন ৬৫ বছর বয়সী বলসোনারো।

“আগামীকাল নতুন টেস্টে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে কি-না আমি জানি না। তবে সবকিছুই ঠিকঠাক আছে। আমি কাজে ফিরে যাব। তবে আবারও পজিটিভ আসলে অবশ্যই আমি আরও কিছুদিন অপেক্ষা করব।”

সাক্ষাৎকারে বলসোনারোর ইঙ্গিত, সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যেই আবার নিজের নিত্যদিনের কাজে ফিরতে চান তিনি।

“সবকিছুই ঠিক আছে। আমরা সব সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কাজ করছি। কাজগুলো যাতে জমা হয়ে না যায় সে জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

গত মঙ্গলবার টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে বলসোনারো নিজেই করোনায় আক্রান্তের হওয়ার কথা জানান। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ফেসবুকে লাইভে এসে বলেন, অসুস্থ বোধ করার প্রতিদিনই একটি করে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট খাচ্ছেন তিনি।

ওষুধটি মূলত ম্যালেরিয়ার। করোনায়ও এটি কাজে দেয় বলে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিলসহ অনেক দেশ এটি প্রয়োগের অনুমতি দেয়। যদিও কভিড-১৯ চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের কার্যকারিতা নিয়ে কোনো সঠিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত বিজ্ঞানীরাও।

তবে বলসোরানো বলেন, “আমি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন গ্রহণ করছি। এটা কাজে দিয়েছে। আমি ভালো আছি, সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ।”

ব্রাজিলে করোনাভাইরাসের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর বৈশ্বিক তালিকায় আগে থেকেই শীর্ষে আছে লাতিন আমেরিকার দেশটি। স্থানীয় সময় সোমবার পর্যন্ত দেশটিতে কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৮৩৩ জন; আর আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১৮ লাখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত