কলকাতার ছোট ও বড় পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অর্ক রায় সেতু
কেমন আছেন?
এখন পর্যন্ত ভালো আছি। ভালো থাকার চেষ্টা করছি। কলকাতার করোনা পরিস্থিতি অতটা ভালো নয়। সব নেগেটিভিটির মধ্যে থেকেও নিজেকে পজিটিভ রাখার চেষ্টা করছি।
অভিনয় জগতে পদার্পণ...
অভিনয়ে আসার আগে মডেলিং করতাম। অভিনেত্রী হওয়ার পেছনে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর ভূমিকা অনেক। সঙ্গে শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্ম ও বাবা-মা। এরা ছাড়া আমি একাই লড়ছি টলি ইন্ডাস্ট্রিতে। এখনো অনেক পরিশ্রম করে যাচ্ছি। সংগ্রামটা আসলে শেষ হধেয় যায় না। শেষ নিঃশ্বাস অবধি মানুষের সঙ্গে থেকে যায়। বিশেষ করে যারা সংগ্রাম করতে পছন্দ করেন। এই ইন্ডাস্ট্রিতে এগোনোর জন্য প্রত্যেকের একজন গডফাদার থাকেন। একজন শিল্পীর জীবনে ক্যামেরা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা আমাকে রাজ চক্রবর্তী শিখিয়েছেন। ভবিষ্যতে আমি আবার তার সঙ্গে কাজ করতে চাই।
প্রাপ্তি...
‘ভজ গোবিন্দ’ সিরিয়ালের ডালি চরিত্রটি আমার ক্যারিয়ারের দুয়ার খুলে দেয়। এটা আজীবন আমার সঙ্গে থেকে যাবে। কমেডি রোল প্লে করা কষ্টসাধ্য, আমি সেই চ্যালেঞ্জটা নিয়ে নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছি। লকডাউনের এ সময়ে মনে হচ্ছে চরিত্রের বাইরে থেকে আমি পঙ্গু হয়ে গিয়েছি। আর প্রাপ্তির কথা এখন ভাবছি না। আমি যাই করি, চেষ্টা করি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে। প্রাপ্তির কথা ভাবলে শব্দটা মাথায় থেকে যাবে। দেওয়ার আছে এখনো অনেক কিছু। তবে ক্যারিয়ারের ছয় বছরে দর্শকের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। এর চেয়ে বেশি প্রাপ্তি এ মুহূর্তে দরকার নেই।
টিভি সিরিয়াল ও বাস্তবতা...
ভালো-মন্দ নিয়েই জীবন। কাজের ক্ষেত্রে সবার আগে সমালোচনা খুঁজি। সমালোচনা না পেলে মনে হয় কাজটাই বৃথা। আসলেই কোনো কিছু একশ ভাগ ঠিক হতে পারে না। একটা সিরিয়ালে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা চরিত্র, ফ্যামিলি ড্রামা বা লাভ স্টোরি অনেক ধরনের সমালোচনা হতে পারে। বাস্তবতা আর সামাজিক প্রভাবের কথা এলে বলব, এখন আর সিরিয়াল দেখে কেউ বাড়িতে ঝগড়া করে না। আমাদের দর্শক অনেক ম্যাচিউর। মানুষের মধ্যে একটা ভ্রান্ত ধারণা ছিল সিরিয়াল নিয়ে। এখন কিন্তু তা বদলে গেছে। এখন গল্পগুলো প্রেজেন্ট করা হচ্ছে, যেটা আমাদের জীবনে ঘটছে।
ডালি থেকে রাধিকা...
ডালি চরিত্রটি দর্শকের মনে দাগ কেটেছে। এরপর বিজয়িনী সিরিয়ালে কেকা চরিত্রটি করেছি। যেটা ছিল একটা ওড়িশি নৃত্যশিল্পীর চরিত্র। তারপর একটা পিরিয়ড ড্রামা করেছি। এ মুহূর্তে করছি ‘কি করে বলব তোমায়’ সিরিয়ালের রাধিকা। মেয়েটা ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়েছে। সে ক্যারিয়ারের প্রতি ভীষণ দায়িত্বশীল আর ক্রিয়েটিভ। নখ থেকে মাথা অবধি বিশেষত্ব খোঁজে। এই চরিত্রটা এখনকার মেয়েদের সঙ্গে মিলে যায়। কোনো এক্সট্রা কিছু নেই, খুবই সরল। তার জীবনে সবটা অস্বাভাবিক, কিন্তু সে স্বাভাবিক।
