ভুয়া নমুনা পরীক্ষা

বিদেশে দেশের ইমেজ নষ্টের আশঙ্কা : কাদের

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২০, ০৭:০৯ এএম

করোনাভাইরাসের ভুয়া নমুনা পরীক্ষা বিদেশে দেশের ইমেজ নষ্টের আশঙ্কা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘নমুনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ একদিকে আমাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে বিদেশে দেশের ইমেজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এ ধরনের অপকর্ম নিন্দনীয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর কোনো প্রতিষ্ঠান যেন এ ধরনের অপরাধ করতে না পারে সেই জন্য সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে এক ডিজিটাল ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দিনে আমরা লক্ষ্য করছি করোনা পরীক্ষার নমুনা ক্রমশ বাড়ছে। আবার পরীক্ষিত নমুনা বিবেচনায় আক্রান্তের শতকরা হার বেশি। যা আজকের হিসাবে প্রায় চারভাগের একভাগ। নমুনা পরীক্ষার বাইরে আক্রান্ত রোগী থাকা অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ এবং সংক্রমণ ছড়াতে পারে দ্রুত। তাই নমুনা পরীক্ষা আর বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ করছি। ল্যাবগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী পরীক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রেরণে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর ও দ্রুত উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি। মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে করোনা চিকিৎসার সংক্রমণ রোধ ও অন্যান্য রোগের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে সুসমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, নমুনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণের ফলে অনেক অসহায়, কর্মহীন দরিদ্র মানুষ করোনার লক্ষণ দেখা দিলেও পরীক্ষা করাতে আসছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। করোনার নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ার এটাও অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে। এটি উদ্বেগের বিষয়। অসহায় মানুষগুলোর সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে প্রায় ১৫টি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এই বন্যা আরও অন্যান্য জেলায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বন্যাদুর্গত এলাকার পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে। জেলায় জেলায় খাদ্য মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে। বন্যার পানিতে মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ফসল, গবাদি পশু এবং অন্যান্য সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। সরকার পানিবন্দি মানুষকে ইতিমধ্যে আশ্রয়ণকেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে। সে কারণে এক হাজার আশ্রয়ণকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্গত এলাকার মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার সরবরাহ এবং মানবিক সহায়তায় প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছি। আপনারা মানুষের পাশে থাকুন। দুর্যোগে আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যগতভাবে অসহায় মানুষের সহায়তা করে আসছে। এ বিষয়ে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে নেতাকর্মীদের প্রতি।

সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন জেলায় কোরবানি পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বলে গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছে। ক্রেতা-বিক্রেতার অবাধ বিচরণ এবং স্বাস্থ্যবিধির প্রতি অবহেলা পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তুলতে পরে। তাই পশুর হাটের ইজারাগ্রহীতা, স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ বাহিনীর প্রতি পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আরও কঠোর হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোকে সচেতনতা বাড়ানোর মধ্যে সম্পৃক্ত করতে পারে বলে আমি মনে করি। এছাড়া অনলাইনে কোরবানির পশু কেনাবেচার জনসাধারণ উৎসাহ প্রদানে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত