রাজধানীর শ্যামবাজারসংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে ‘মর্নিং বার্ড’ লঞ্চডুবিতে ৩৪ জনের প্রাণহানির মামলায় ময়ূর-২ লঞ্চের সুকানি-চালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোরে র্যাব-৮-এর একটি দল বাগেরহাট থেকে সুকানি নাসির মৃধাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর সকালে পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকা থেকে লঞ্চটির ইঞ্জিনচালক শিপন হাওলাদার ও শাকিল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন নৌ-পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্যরা। নাসির মৃধা ঘটনার দিন ময়ূর-২ লঞ্চটি চালাচ্ছিলেন। এ নিয়ে এই মামলার এজাহারভুক্ত ৭ আসামির মধ্যে ৫ জনসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
সদরঘাট নৌ-থানার ওসি রেজাউল করিম ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সূত্রাপুর এলাকা থেকে ময়ূর-২ লঞ্চের দুই ইঞ্জিনচালক শিপন হাওলাদার ও শাকিল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে তাদের চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
ওসি বলেন, এর আগে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ ছোয়াদ, মাস্টার আবুল বাশার ও এজাহারের বাইরে ময়ূর-২-এর সুপারভাইজার আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখনো এজাহারভুক্ত আসামি লঞ্চটির মাস্টার জাকির হোসেন ও গ্রিজার রুমের কর্মী হৃদয় পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গত ২৯ জুন সকালে মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে ‘মর্নিং বার্ড’ নামে ছোট আকারের লঞ্চটি ঢাকার সদরঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। সকাল ৯টার কিছু সময় পর সদরঘাটের অদূরে ময়ূর-২ নামে বড় আকারের লঞ্চের ধাক্কায় ‘মর্নিং বার্ড’ লঞ্চটি ডুবে যায়। ওই ঘটনায় মারা যাওয়া ৩৪ জনের বাড়িই মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়। একই দিন রাতে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে একটি মামলা করে নৌ-পুলিশ। এতে ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ ছোয়াদ, লঞ্চটির মাস্টার আবুল বাশার মোল্লা ও জাকির হোসেন, চালক শিপন হাওলাদার ও শাকিল হোসেন, সুকানি নাসির মৃধা ও গ্রিজার রুমের কর্মী হৃদয়কে আসামি করা হয়। মামলাটির তদন্তও করছে সদরঘাট নৌ-থানা পুলিশ।
র্যাব-৮-এর এক কর্মকর্তা জানান, বুধবার ভোরে বাগেরহাটের মোংলা বন্দর এলাকায় অবস্থানরত এমভি রাজিব-২ কার্গো জাহাজ থেকে নাসির মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভবানীপুর এলাকায়।
তিনি বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনার পর থেকে সুকানি মো. নাসির মৃধা আত্মগোপনে চলে যান। ঘটনার পরপরই ঢাকার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে তিনি বাগেরহাটে চলে যান। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান জানতে পেরে বুধবার ভোরে বন্দর এলাকায় অবস্থানরত এমভি রাজিব-২ কার্গো জাহাজে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার নাসিরকে ঢাকার নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
