রাজধানীর গুলশানে বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লেগে মৃত্যুর ঘটনায় চার রোগীর পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদেশের ১৫ দিনের মধ্যে এ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। এর আগে গত ২৯ জুন ইউনাইটেড হাসপাতালকে সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। অন্যথায় এ বিষয়ে আদালত নির্দেশ দেবে বলে ওই আদেশে বলা হয়। একটি পরিবার ছাড়া অন্যদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের সমঝোতা না হওয়ায় গতকাল হাইকোর্টের এ আদেশ আসে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় বলেন, চার পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আর ইউনাইটেড হাসপাতালের আইনজীবী শুনানিতে বলেছেন, একটি পরিবারের সঙ্গে ২০ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে।
ইউনাইটেড হাসপাতালের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটি পরিবারের (মনির হোসেনের পরিবার) সঙ্গে ইউনাইটেড হাসপাতালের ২০ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে। এখন হাইকোর্ট ৩০ লাখ টাকা করে চারজনকে দিতে বলেছে, নাকি পঞ্চম পরিবারকে আরও ১০ লাখ টাকা দিতে হবে সে বিষয়ে আমি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নই, মূল আদেশটি দেখে এ বিষয়ে বলতে পারব।’
রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক, হাসান এম এস আজিম, মুনতাসির আহমেদ ও রিটকারী আইনজীবী নিয়াজ মুহাম্মদ মাহবুব। ইউনাইটেড হাসপাতালের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ।
গত ২৭ মে রাতে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনাভাইরাসের রোগীদের জন্য স্থাপিত আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লাগে। আধা ঘণ্টার মধ্যে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও পাঁচ রোগী মারা যান। তাদের মধ্যে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ জানায়। ওই পাঁচ হলেন রিয়াজুল আলম (৪৫), খোদেজা বেগম (৭০), ভেরুন অ্যান্থনি পল (৭৪), মো. মনির হোসেন (৭৫) ও মো. মাহবুব (৫০)। এরপর ইউনাইটেড হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল, নিহতদের পরিবারকে পাঁচ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে গত ৩০ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন উচ্চ আদালতের দুই আইনজীবী নিয়াজ মুহাম্মদ মাহবুব ও শাহিদা সুলতানা শিলা। পরে ১ জুন আরও একটি রিট আবেদন করেন উচ্চ আদালতের দুই আইনজীবী রেদোয়ান আহমেদ রানজীব ও হামিদুল মিসবাহ। এ ঘটনায় গত ১৪ জুন রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (রাজউক), ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এবং ঢাকা মহানগন পুলিশের (ডিএমপি) তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। তিনটি সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনেই ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইউনাইটেড কর্র্তৃপক্ষের গাফিলতি, উদাসীনতা ও অবহেলার ও নামমাত্র অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার চিত্র উঠে আসে।
