বলিউডের প্রথম সারির নায়িকাদের অন্যতম ক্যাটরিনা কাইফ। বৃহস্পতিবার ৩৭ বছর বয়সে পা দিলেন এই গ্ল্যামার গার্ল। অনেকেই হয়তো জানেন না, ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে বলিউডে কাজ করছেন ক্যাট। নিয়মিত নবায়ন করতে হয় ওয়ার্ক ভিসা।
ক্যাটরিনারা ছয় বোন ও এক ভাই। যাদের একজন ইসাবেলা কাইফ শিগগিরই বলিউডে ডেবিউ করতে চলেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে এ নায়িকা জানান, তার বেড়ে উঠোর ক্ষেত্রে বাবা কাশ্মিরী নাগরিক মুহাম্মদ কাইফের কোনো ভূমিকা নেই। অনেক কষ্টে তাদের বড় করেছেন মা সুজান টারকোট।
ভারত-লল্ডনের পাশাপাশি ক্যাটরিনা পোল্যান্ড, হাওয়াই, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জাপান ও সুইজারল্যান্ডেও বসবাস করেছেন বিভিন্ন সময়ে। ‘বুম’ দিয়ে যখন তিনি বলিউডে পা রাখেন, সেই সময় জ্যাকি শ্রফের স্ত্রী আয়েশা শ্রফ তার নাম ক্যাটরিনা টারকেট পালটে রাখেন ক্যাটরিনা কাইফ। ভারতীয় দর্শকদের কাছে কাইফ পদবী বেশি কাছের হবে, সেই কারণেই পালটে দেওয়া হয়।
১৯৮৩ সালের ১৬ জুলাই হংকং-এ জন্ম ক্যাটরিনার। বলিউডে তিনি শুরু করেছিলেন একজন আউটসাইডার হিসেবেই। কিন্তু নিজের প্রতিভা ও কঠিন পরিশ্রমের জোরে আজ তিনি বলিউডের অন্যতম অভিনেত্রী। তবে তার এই দীর্ঘ সফর মোটেই মসৃণ ছিল না। নানা ওঠা পড়ার মধ্যে দিয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে হয়েছে।
১৯৯৯ সালে প্রথম ছবি ‘বুম’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়লেও হার মানেননি ক্যাটরিনা। শুরুর দিকে অভিনয় নিয়ে অনেক কটাক্ষের মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি বিন্দুমাত্র হিন্দি না জানা ও ভারতীয় দর্শকের মন বুঝতে না পারায় প্রায় একঘরে হয়ে গিয়েছিলেন। তাতে ভেঙে না পড়ে, বরং নিজেকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন ক্যাট।
তার জীবনে বড় বদল আসে ২০০৫-২০০৬ সালে, যখন তিনি কাজ শুরু করেন সলমান খান ও অক্ষয় কুমারের সঙ্গে। তার ক্যারিয়ারকে শিখরে নিয়ে যাওয়ার পেছনে বড় অবদান রয়েছে এই দুই তারকার। ২০০৫ সালে সালমানের সঙ্গে তার প্রথম ছবি ছিল ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিউ কিয়া’। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ২০০৭ সালে অক্ষয় কুমারের সঙ্গে মুক্তি পায় ‘নমস্তে লন্ডন’ ও ‘ওয়েলকাম’। দুটিই বক্স অফিসে সাফল্যের মুখ দেখে। এরপর ২০০৮ সালে আসে অক্ষয়ের সঙ্গে ‘সিং ইজ কিং’। পরের বছর জন আব্রাহামের বিপরীতে কবির খান পরিচালিত ‘নিউইয়র্ক’ তাকে অন্যরকম খ্যাতি দেয়। পরবর্তীতে সালমানের সঙ্গে ‘এক থা টাইগার’ ও ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ তাকে বলিউডে স্থায়ী আসন দেয়।
বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘সূর্যবংশী’, বিপরীতে আছেন অক্ষয় কুমার। শোনা যাচ্ছে ক্যাটকে নিয়ে সুপারহিরোইন ছবির কথা ভাবছেন আলী আব্বাস জাফর। পাশাপাশি করোনা কেন্দ্রিক রোমান্টিক গল্প নিয়েও কথা হচ্ছে। এ ছাড়া ‘টাইগার’ সিরিজের নতুন ছবি তো আছেই।
ক্যাটরিনাই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী, যার অনুকরণে বার্বি ডল তৈরি করা হয়েছে। ফলে মেরিলিন মনরো, এলিজাবেথ টেলরদের পাশাপাশি বার্বি ডল হিসেবে খ্যাতি পান তিনিও। নায়িকা আবার দুর্ধর্ষ দাবা খেলোয়াড়। ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম তুখোড় দাবাড়ু হিসেবে পরিচিত আমির খানকে অনায়াসে পরাজিত করেন তিনি।
