দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরও ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশে করোনা শনাক্তের ১৩১তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৭৩৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। পুরো সপ্তাহে উচ্চহারে সংক্রমণের পর এদিন শনাক্তের হার কিছুটা কমেছে। এদিন ২১ দশমিক ২০ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে গত দুদিনের চেয়ে এদিন মৃত্যু বেড়েছে। দেশে সর্বমোট মৃত্যুর ৭৫ শতাংশই ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে হলেও সম্প্রতি অন্যান্য বিভাগেও মৃত্যু বাড়ছে। বিশেষ করে খুলনা, সিলেট, রংপুর ও রাজশাহীতে। গত পাঁচ দিনে ঢাকার পরেই বেশি মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে। দেশে এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ২ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ২৪২ জন ঢাকা বিভাগের, যা মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক (৪৯.৭৬ শতাংশ)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৩৯ জন (২৫.৬০ শতাংশ) ও তৃতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু খুলনায় ১৪৪ জন (৫.৭৭ শতাংশ)। চট্টগ্রামের পর খুলনার অবস্থান হলেও দুই বিভাগের মৃত্যুর ফারাক অনেক বেশি। তবে গত পাঁচ দিনে মৃত্যুতে চট্টগ্রামকে পেছনে ফেলেছে খুলনা। এই সময়ে মোট মৃত্যুর ১৫ শতাংশ হয়েছে খুলনায় আর ১৪ শতাংশ চট্টগ্রামে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে সারা দেশে মারা গেছে ১৯১ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৮৯ জন মারা গেছে। তারপরেই খুলনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামে মারা গেছে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৭ জন। এরপরে যথাক্রমে সিলেটে ১৪ জন, রংপুরে ১২ জন, রাজশাহীতে ১১ জন, বরিশালে ৮ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন মারা গেছে।
গতকাল নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, এদিন পরীক্ষা কার্যক্রমে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ঢাকার বেসরকারি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এ নিয়ে দেশে সর্বমোট ৮০টি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগারে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ৫৪৮টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৮৮৯টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ২ হাজার ৭৩৩ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ২০ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে আরও ৩৯ জন এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৯ লাখ ৯৩ হাজার ২৯১টি নমুনা পরীক্ষায় ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩২৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গড় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে ২ হাজার ৪৯৬ জন এবং সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯৬৩ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ ও সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
তিনি জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের মধ্যে পুরুষ ৩১ জন ও নারী ৮ জন। সর্বোচ্চ ১৮ জন মৃত্যুবরণ করেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও খুলনায় ৬ জন করে, সিলেট ও রংপুরে ৩ জন করে, বরিশালে ২ জন ও রাজশাহী বিভাগে ১ জন মৃত্যুবরণ করেছে। হাসপাতালে ৩৫ জন ও বাড়িতে ৪ জন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ০-১০ বছরের ১ জন, ১১-২০ বছরের ১ জন, ৩১-৪০ বছরের ২ জন, ৪১-৫০ বছরের ৩ জন, ৫১-৬০ বছরের ১২ জন এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সের ২০ জন।
বুলেটিনে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৮৬৭ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছে মোট ১৮ হাজার ৩১ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৪৩৯ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছে মোট ৬০ হাজার ৮১২ জন। হটলাইনগুলোতে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৮১৩টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছে ১ হাজার ৯৪২ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
কভিড হাসপাতালে খালি বেড ও আইসিইউর তথ্য : বুলেটিনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোতে ৬ হাজার ৩০৫টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৪ হাজার ৩১৯টি ও ১৪২টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ৩৭টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৬৫৭টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৩৪১টি ও ৩৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ২০টি। এর বাইরে দেশের অন্যান্য কভিড হাসপাতালে ৭ হাজার ৭০২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫ হাজার ৮৯৪টি ও ১৯৩টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১১৪টি।
