দেশ রূপান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার

নদীর জমি দখল করার সাহস আর কেউ দেখাবে না : নৌ প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২০, ০৬:৩৪ এএম

নৌপথের দুর্ঘটনা, নদীর জমি দখলমুক্ত করা, ফিটনেসবিহীন নৌযান, নৌ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন সেক্টরের দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার তার মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে  সাক্ষাৎকার নিয়েছে পাভেল হায়দার চৌধুরী

দেশ রূপান্তর : নদীপথে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ছোট ছোট নৌকা চলাচল? এগুলো বন্ধের ব্যাপারে আপনার মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেবে কি?

খালিদ মাহমুদ : দেখুন, সব দুর্ঘটনার কারণ ছোট নৌকা নয়। খেয়ানৌকা একেবারেই বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। নদীতে ছোট নৌকা চলাচল অনেক পুরনো। এখানে ছোট নৌকা চালিয়ে অনেকে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। তাই চাইলেই নদীপথের এই যান বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। ওই মানুষগুলোকেও আমাদের দেখতে হবে। তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করে বন্ধ করা ঠিক হবে না। তবে আমরা ছোট নৌকা চলাচলের জন্য আলাদা একটি ঘাট করার চিন্তা করছি। লঞ্চঘাটে যেন ছোট নৌকা ভিড়তে না পারে, সে ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দেশ রূপান্তর : অভিযোগ আছে, দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ ফিটনেসবিহীন নৌযান। ফিটনেসবিহীন যানগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না?

খালিদ মাহমুদ : ফিটনেস দেওয়া-নেওয়ায় আগে ব্যাপক ত্রুটি ছিল। একসময় নীলক্ষেতে ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়া যেত। এরপর ওই পুরনো নৌযানটিই নতুন করে রং করে এবং নতুন নাম দিয়ে আবার চালানো হতো। গত ১০ বছরে এমন ঘটনা একটিও নেই। এখন সেই সব ভুয়া ফিটনেস সার্টিফিকেট নিয়ে এসে লঞ্চ চালানো বন্ধ হয়েছে। এখন লঞ্চের নকশা অনুমোদন ও ফিটনেস সার্টিফিকেটের ব্যাপারে মন্ত্রণালয় খুবই সিরিয়াস। এগুলো বাস্তবায়নে নৌ মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সে আলোকেই ফিটনেস ও নকশা অনুমোদন হয়। 

দেশ রূপান্তর : নৌ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সেক্টরে দুর্নীতির খবর পাওয়া যায়। দুর্নীতি রোধে আপনার পদক্ষেপ কী?

খালিদ মাহমুদ : দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দ্রুত ফরোয়ার্ড করা হয়েছে তদন্ত করার জন্য। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইতিমধ্যে অনেকগুলোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমার মন্ত্রণালয়ে সব সেক্টরের সবাইকে কাজ করার অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছি। পাশাপাশি বলে দিয়েছি কাজের সুফলও চাই। এটাই আমার শেষ কথা। আমি চাই নৌ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সব সেক্টরকে জবাবদিহির আওতায় আনা।

দেশ রূপান্তর : চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখে। এই বন্দর নিয়ে আপনার মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ কোনটি?

খালিদ মাহমুদ : চট্টগ্রাম বন্দরকে লাইফলাইন বলা হয়। খুব ভালোভাবে খেয়াল করলে দেখবেন, করোনাভাইরাস মহামারীতে সারা বিশে^র মতো বাংলাদেশও আক্রান্ত। এর মধ্যেও এক ঘণ্টার জন্য এই বন্দরকে অচল রাখা হয়নি। এ পর্যন্ত সচল রয়েছে লাইফলাইন খ্যাত এই বন্দর। খোঁজ নিলে জানতে পারবেন এই বন্দরে এখন কোনো জাহাজ আউটারে দাঁড়িয়ে থাকে না। একটি জাহাজ আউটারে দাঁড়িয়ে থাকলে অর্থনৈতিকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। জাহাজে পণ্যবোঝাই এবং খালাস করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সেক্টরের সঙ্গে আমি নিজে যোগাযোগ করি। মাল বোঝাই ও খালাসের জন্য যেসব বাথ থাকে সেগুলোকে সার্বক্ষণিক সক্রিয় রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে এখন কোনো জট নেই।

দেশ রূপান্তর : মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরের অগ্রগতি কী?

খালিদ মাহমুদ : চট্টগ্রাম বন্দরের এক্সটেনশন মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর। মাতারবাড়ী বন্দরের জন্য ইতিমধ্যে ১৭ হাজার কোটি টাকা একনেকে পাস করা হয়েছে। কানসালট্যান্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাতারবাড়ী বন্দরের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের এক্সটেনশন। এর মধ্য দিয়ে বিস্তৃতি আরও বেড়ে যাচ্ছে।

দেশ রূপান্তর : দেশের আরেকটি নদী বন্দর মোংলা। এটি প্রায় অচল। এই বন্দর নিয়ে আপনার মন্ত্রণালয়ের কোনো পদক্ষেপ আছে কি?

খালিদ মাহমুদ : মোংলা বন্দর প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনোই আউটার ড্রেজিং হয়নি। শেখ হাসিনার সরকার প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর মূলত মোংলা বন্দর সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রথম আউটার বাড়ে ড্রেজিং করার কাজ চলছে। শত শত কোটি টাকার ড্রেজিং চলছে। ঘাষিয়াখালী ট্যানেল ড্রেজিং চলছে। এখন প্রতিদিন ২৫-৩০টি জাহাজ আসে এই বন্দরে। মাল খালাস করার কাজ চলছে। এগুলো মোংলা বন্দরকে সচল করার দেশ রত্ন শেখ হাসিনার চিন্তার ফসল।

দেশ রূপান্তর : পায়রা বন্দর কতটুকু এগিয়েছে?

খালিদ মাহমুদ : দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য পায়রা বন্দর একটি স্বপ্ন। ২০২২-২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আসছে পায়রা বন্দর। এর মধ্য দিয়ে মরে যাওয়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা শহর আলোকিত হবে।

দেশ রূপান্তর : নৌ মন্ত্রণালয় নিয়ে আপনার বিশেষ কোনো স্বপ্ন আছে কি?

খালিদ মাহমুদ : পদ্মা, মেঘনা, যমুনা এই আমাদের ঠিকানা। নদীমাতৃক এ দেশকে নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ একটি স্বপ্ন রয়েছে, সেটাই বাস্তবায়ন করতে চাই আমি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত