৭৫% পোশাক কারখানার বেতন পরিশোধ

ঈদ বোনাস-অগ্রিম বেতনের সিদ্ধান্ত আগামী সপ্তাহে

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২০, ০৬:৩৯ এএম

দেশের ৭৬ শতাংশ তৈরি পোশাক কারখানা জুনের বেতন পরিশোধ করেছে। বাকি কারখানার বেশির ভাগ ২০ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধ করবে। তবে কয়েকটি কারখানায় তা ঈদ ছুটি পর্যন্ত গড়াতে পারে। এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে জুলাইয়ের অগ্রিম বেতন এবং ঈদ বোনাসের বিষয়ে আসছে সপ্তাহে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসতে যাচ্ছেন কারখানার মালিকরা। সেখানে বোনাসের হার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। কারখানার মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতা এবং শিল্পপুলিশের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর এক শীর্ষ নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে আমরা বেঁধে দেওয়া সময়ে বেতন দিই। কিন্তু গত তিন মাস বেতন হচ্ছে সরকারের দেওয়া ঋণ তহবিলে, যেটি কয়েকটি ধাপে শ্রমিকদের দেওয়া হয়। এ জন্য দেরি হয়। এর সঙ্গে মালিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। মাসের শুরুতেই আমরা কাগজপত্র ব্যাংকে জমা দিয়েছি। আশা করছি, ২০ জুলাইয়ের মধ্যে অধিকাংশ কারখানা বেতন পরিশোধে সক্ষম হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের বেতন-বোনাস নিয়ে প্রতি বছর শ্রম মন্ত্রণালয়ে সরকার-মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়। আসছে সপ্তাহে এই বৈঠক হবে। সেখানে ঈদ বোনাসের হার ও পরিশোধের সময়সীমা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। গত বছর যে হারে বোনাস হয়েছে, এবারও তা-ই হতে পারে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিল্পপুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগের দুই মাসের চেয়ে জুনের বেতন কিছুটা দ্রুত দেওয়া হয়েছে। এখনো ২৫ শতাংশ কারখানার বেতন বকেয়া রয়েছে। আশা করছি, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এসব কারখানায় বেতন কার্যক্রম শেষ হবে।’

বিজিএমইএ জানায়, তাদের সদস্যভুক্ত ২ হাজার ২৭৪টি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার মধ্যে বর্তমানে চালু রয়েছে ১ হাজার ৯২৬টি। এর মধ্যে জুনের বেতন পরিশোধ হয়েছে ১ হাজার ৪৬৫টি কারখানায়। বাকি ৪৬১টি কারখানার মধ্যে অর্ধিকাংশই আগামী সপ্তাহের মধ্যে বেতন পরিশোধ করতে সক্ষম হবে। তবে নানা জটিলতায় কয়েকটি করাখানার বেতন পরিশোধ করতে কিছুটা দেরি হতে পারে। অন্যদিকে বিকেএমইএ জানায়, তাদের সদস্যভুক্ত ৮৩৩টি রপ্তানিমুখী কারখানার মধ্যে ৭৫০ কারখানা বর্তমানে উৎপাদনে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কতটি কারখানায় বেতন দেওয়া হয়েছে, তার হিসাব নেই সংগঠনটির কাছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংগঠনের এক পরিচালক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সদস্যভুক্ত প্রায় ৭৫ শতাংশ কারখানা জুনের বেতন দিয়েছে। বাকিগুলো ২০ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধ করতে পারবে।’

শ্রম আইন অনুযায়ী, কোনো শ্রমিকের চাকরির সময়সীমা টানা এক বছর হলে তিনি মূল বেতনের সর্বনিম্ন অর্ধেক ও সর্বোচ্চ মূল বেতনের সমান দুটি উৎসব ভাতা (বোনাস) পাবেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ঈদুল ফিতরের বোনাস নিয়ে মালিক-শ্রমিকদের প্রতিনিধির সঙ্গে সরকারের বৈঠকে সিদ্ধন্ত হয়, কারখানাগুলো আগের বছর যে হারে বোনাস দিয়েছে, তাই অনুসরণ করবে। তবে যাদের আর্থিক সমস্যা, তারা মোট বোনাসের অর্ধেক ঈদের ছুটির আগে এবং বাকিটা পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে পারবে। যদিও সে সময় ৪৮টি পোশাক কারখানা ঈদের আগে তাদের শ্রমিকদের বোনাস দিতে পারেনি। এ নিয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন করলেও শেষ পর্যন্ত তারা বোনাস পাননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত