তৃতীয় অধ্যায়
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
আজমল সাহেব ১০ বছর পর কাতার থেকে দেশে ফিরে তার ছেলেমেয়েদের পরিবর্তন দেখে বিস্মিত হলেন। তার মেয়ে ইন্টারনেট থেকে ঘরে বসেই নতুন নতুন তথ্য ও দেশ-বিদেশের খবর জানছে। ছেলে ফেইসবুকে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সংগ্রহ করছে। তার ছোট ভাই বিদেশ থেকে অনলাইনে টাকা পাঠাচ্ছে। বাড়ির অন্য সদস্যদের জীবনযাপনেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
ক. সামাজিক উন্নয়ন কী?
খ. অন্য সংস্কৃতির ধারা নিজ সংস্কৃতিতে আয়ত্ত করাকে কী বলে? ব্যাখ্যা করো।
গ. আজমল সাহেবের পরিবারে কী ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের বৈচিত্র্যগুলো সমাজ পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর
ক. সামাজিক উন্নয়ন হলো সমাজের ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন।
খ. অন্য সংস্কৃতির ধারা নিজ সংস্কৃতিতে আয়ত্ত করাকে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ বলে। সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যেটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে। যখন মানুষ কোনো নতুন সংস্কৃতি বা সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করতে আসে তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তা,-চেতনা, মূল্যবোধÑ এককথায় সামগ্র জীবনধারার সঙ্গে আত্তীকৃত হতে চেষ্টা করে। এভাবে এক সময় আত্তীকরণ হয়ে যায়।
গ. আজমল সাহেবের পরিবারে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল। স্থান ও কালের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটে। সংস্কৃতি এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় সংস্কৃতির মধ্যে পরিবর্তন ঘটে। আবার অন্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে সংস্কৃতি তার নিজের রূপ বদল করে। একেই সংস্কৃতির বা সাংস্কৃতিক পরিবর্তন বলে। প্রযুক্তির উন্নয়ন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ১০ বছর পর কাতার থেকে দেশে ফিরে আজমল সাহেব দেখেন, তার মেয়ে ইন্টারনেট থেকে ঘরে বসেই নতুন নতুন তথ্য ও দেশ-বিদেশের খবর জানছে। ছেলে ফেইসবুকে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সংগ্রহ করছে। তার ছোট ভাই বিদেশ থেকে অনলাইনে টাকা পাঠাচ্ছে। বাড়ির অন্য সদস্যদের জীবনযাপনেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দশ বছরের ব্যবধানে আজমল সাহেবের পরিবারে এরূপ পরিবর্তন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকেই নির্দেশ করে।
ঘ. উদ্দীপকের বৈচিত্র্যগুলো সমাজ পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে বলে আমি মনে করছি এবং তার সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরছি। প্রযুক্তির উন্নয়ন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে। প্রযুক্তির উন্নয়নে গোটা বিশ্ব এখন একটি বিশ্বপল্লীতে রূপান্তরিত হয়েছে। যার ফলে যোগাযোগপ্রক্রিয়া অনেক উন্নত হয়েছে। ইন্টারনেট প্রযুক্তি দেশ এবং দেশের বাহিরে এক মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের যোগাযোগকে খুবই সহজ করে দিয়েছে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ভাববিনিময়, পরস্পরের খোঁজখবর নেওয়া, টাকা পাঠানো, চাকরির আবেদন করা, বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা ইত্যাদি এখন ঘরে বসে অল্প সময়েই করা যায়। এছাড়া ফেইসবুক, ম্যাসেঞ্জার, স্কাইপি, ইমোর সাহায্যে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব সৃষ্টি এবং মতামত বিনিময় করা যায়। এভাবে তথ্যপ্রযুক্তি সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা পালন করছে। উদ্দীপকে আজমল সাহেবের পরিবারে তথ্যপ্রযুক্তির উল্লিখিত দিকগুলোর ব্যবহার লক্ষ করা যায়। আগে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল চিঠিপত্রের আদান-প্রদান এবং তা ছিল সময়সাপেক্ষ কিন্তু প্রযুক্তির উন্নতির ফলে মুহূর্তের মধ্যেই যোগাযোগ এবং খোঁজখবর নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির এরূপ বৈচিত্র্য তার পরিবারের কাজকে সহজতর করেছে। এভাবে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি সমাজ পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।
