চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। পণ্য ও সেবা খাত মিলিয়ে বিদায়ী অর্থবছরে ৫ হাজার ৪ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬০০ কোটি ডলার কম। যদিও গত অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ হাজার কোটি ডলারের মতো।
গতকাল বৃহস্পতিবার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যজ্যন্ত্রী টিপু মুনশি এ তথ্য জানান। জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রপ্তানির এ লক্ষ্যমাত্রার ব্রিফিংয়ে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীন সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আরও যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক প্রমুখ।
টিপু মুনশি জানান, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৫ দশমিক ২৮ শতাংশ কম হয়েছে। প্রবৃদ্ধি কমেছে ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কথা বিবেচনা করেই চলতি অর্থবছরে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে পণ্য খাতে ৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার এবং সেবা খাতে ৭০০ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
করোনা পরিস্থিতির কারণে সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় কমেছে ২৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি কমেছে ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ কমানো হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে ৫৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার। তাই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কথা বিবেচনা করে চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪৮ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পণ্য খাতে রপ্তানির টার্গেট ৪১ বিলিয়ন এবং সার্ভিস সেক্টরে ৭ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মোট রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রায় প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এর মধ্যে পণ্য খাতে প্রবৃদ্ধি ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও সেবা খাতে ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। যে রপ্তানি আয় নির্ধারণ করেছি, সেটা আমরা অর্জন করতে পারব।
গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৫৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পণ্য খাতে রপ্তানির টার্গেট ছিল সাড়ে ৪৫ বিলিয়ন এবং সার্ভিস সেক্টরে সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার। উভয় খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গত দুই বছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা এবং এর বিপরীতে অর্জন হার ও প্রবৃদ্ধির হার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যে কভিড-১৯-এর নেতিবাচক প্রভাবের ফলে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে পণ্য খাতে রপ্তানি আয় যথাক্রমে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ, ৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও ৬১ দশমিক ৮৭ শতাংশ কমেছে। তবে জুন মাসে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা থেকে অনুমান করা যায় সঠিক নীতি অনুসরণ ও সময়ানুগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি খাতে ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সেবা রপ্তানি খাতে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পণ্য রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে পণ্য রপ্তানি খাতে ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং সেবা রপ্তানিতে খাতে ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। গত অর্থবছর এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে কভিড-১৯-এর নেতিবাচক প্রভাবের ফলে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে পণ্য খাতের রপ্তানি আয় হ্রাস পেয়েছে, তবে জুন মাস থেকে তা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। আশা করা যায়, সঠিক নীতি অনুসরণ এবং সময়মতো তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে রপ্তানির গতি বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এ বছর কোরবানির চামড়ার উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করার জন্য সরকার সবকিছু করবে। বিষয়টির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এবং বিগত দিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চামড়া সংগ্রহের জন্য এবার কোনো অর্থসংকট থাকবে না। এবার প্রয়োজনে সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির বিষয়টিও মাথায় রেখেছে। গত বছরের মতো পরিস্থিতি কোনো অবস্থাতেই হতে দেওয়া হবে না। কয়েক দিনের মধ্যে ট্যানারির মালিকরা চামড়ার ক্রয়মূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন। আমরা আশাবাদী এ বছর কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
