ঢাকার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে এক সময় প্রতি বছর প্রায় ১০০ সিনেমা মুক্তি পেলেও সম্প্রতি তা কমে এসেছে। গত কয়েক বছর সেই সংখ্যাটা নামতে নামতে ৪০-৪৫-এ গিয়ে ঠেকেছে। ২০২০ সালকে অনেকে চলচ্চিত্রের ঘুরে দাঁড়ানোর বছর হিসেবে ভবিষ্যদ্বাণী করলেও করোনার হানায় প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে ঢাকার সিনে ইন্ডাস্ট্রি। বেকার হয়ে পড়েছেন পরিচালক, প্রযোজক, নায়ক-নায়িকারা। এমন অবস্থায় আশা দেখাচ্ছে ওয়েব ফিল্ম।
ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন মাধ্যমগুলোতে ওয়েব ফিল্মের বেশ চাহিদা বাড়ছে। ঢাকার চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা এখন ঝুঁকছেন সেদিকেই। ওয়েব ফিল্ম, শর্টফিল্ম, ওয়েব সিরিজেই নিজেদের ভবিষ্যৎ দেখছেন ঢালিউডের কলাকুশলীরা। বেশ কয়েকটি প্রযোজনা সংস্থাও ভাবছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চালু করার কথা। কিন্তু পরিচালক ও কলাকুশলীরা আপাতত টিকে থাকার লড়াইয়ের জন্য নিচ্ছেন ওয়েব ফিল্ম নির্মাণের সিদ্ধান্ত।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক সৈকত নাসির বলেন, ‘আমি সিনেমাকে ওয়েব ফিল্মের গণ্ডিতে ফেলতে চাই না। ফিল্ম মানে ফিল্মই। ওয়েব একটি প্রদর্শনের মাধ্যম মাত্র। আমি যা বানাচ্ছি সেটা ফিল্মই। তবে এটা ঠিক, করোনা পরিস্থিতির কারণে আমার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর প্রিমিয়ার ওয়েবেই হবে। ভরসাটা ওয়েবের দিকেই বেশি। কিন্তু আমি আমার সিনেমাগুলো মাল্টিপ্লেক্স হল বা প্রচলিত সিনেমা হলগুলোতেও মুক্তি দেব। আর বাজেটের পরিমাণ যাই হোক না কেন আমি ফিল্মই বানাব।’
শাকিব খান অভিনীত ‘মেন্টাল’ সিনেমার প্রযোজক পারভেজ চৌধুরী সম্প্রতি বিনিয়োগ শুরু করছেন ওয়েব প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য। ইতিমধ্যে বেশ কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। শিগগিরই ওয়েব ফিল্মও নির্মাণ করবেন। দেশ রূপান্তরকে পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘আমি আড়াই কোটি টাকা খরচ করে শাকিব খানকে নিয়ে ‘মেন্টাল’ নির্মাণ করেছিলাম। কিন্তু সিনেমা হলগুলো থেকে লগ্নি তুলে আনতে পারিনি। আমি এখন ভাবছি ওয়েব প্ল্যাটফর্মের জন্য ফিকশন নির্মাণ করব। করোনাপরবর্তী সময়ে আর আগের মতো কোটি টাকার ঝুঁকি নিতে চাই না। কম বাজেটের ওয়েব ফিল্ম বানানোর চেষ্টা করছি। মাধ্যমটা নতুন হলেও আশা করছি ভরসা করা যাবে।’
ওয়েব ফিল্ম নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিকও। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘এখন আর আগের মতো সিনেমার বাজার নেই। সিনেমা হলগুলোও বন্ধ। প্রচলিত সিনেমা হলগুলো চালু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আর যদি কিছু হল চালুও হয় সেটাও হবে হাতেগোনা।
হাতেগোনা কিছু সিনেমা হলে বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি দিয়ে লগ্নি উঠিয়ে আনা সম্ভব হবে না। ফলে এই সময়ে পরিচালক-প্রযোজকদের ওয়েব প্ল্যাটফর্মের দিকেই ঝুঁকতে হবে। এসব প্ল্যাটফর্মে যেমন কম বাজেটের সিনেমা প্রদর্শিত হবে তেমনি বিগ বাজেটের সিনেমাও নির্মাণ সম্ভব। নেটফ্লিক্সের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোর উপযোগী সিনেমা নির্মাণের দিকে যেতে হবে। পাশাপাশি দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মও গড়ে তুলতে হবে। সেক্ষেত্রে কপি সিনেমা বানানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। না হলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে না। এই সময়টা পুরোপুরি মৌলিক সিনেমার। মৌলিক গল্প ছাড়া কপি গল্পে কাজ করে কেউ সুবিধা করতে পারবে না। আমি নিজেও ওয়েব ফিল্ম বানানোর চেষ্টা করছি। সবকিছু গুছিয়ে এনে কোরবানির ঈদের পর কাজে নামার ইচ্ছে আছে।’
