বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শুক্রবার ভোর পৌনে ৬টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসাপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র-আইসিইউতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
এমাজউদ্দীন আহমেদের মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, ‘শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে রাত ২টার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভোর ৫টার দিকে হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি।’
তিনি জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগে তার মধ্যে অসুস্থতার কোনো চিহ্ন ছিল না। শুক্রবার জুমার পর কাঁটাবন ঢাল মসজিদে জানাজা শেষে তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
মৃত্যুকালে স্ত্রী সেলিমা আহমদ, চার সন্তান ও নাতি-নাতকর সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান এমাজউদ্দীন।
অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ১৯৯২-৯৬ সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সর্বশেষ ইউনির্ভাসিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) উপাচার্য ছিলেন।
এমাজউদ্দীন আহমদ বিরোধী দল বিএনপির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং দলটির নীতিনির্ধারণে তার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ছিল বলে ধারণা করা হতো।
অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ১৯৩২ সালের ১৫ ডিসেম্বর ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত বাংলার মালদাহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ‘গোহাল বাড়ি’ এলাকায় পরিবারসহ দীর্ঘদিন বসবাস করেন প্রফেসর এমাজউদ্দীন। শিবগঞ্জের আদিনা সরকারি ফজলুল হক কলেজ ও রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন ছাত্র তিনি।
সরকারি কলেজের প্রভাষক হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন এমাজউদ্দীন। এরপর কানাডার ওন্টারিওর কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ওপর পিএইচডি করেন তিনি।
দেশে ফিরে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে যোগ দেন এমাজউদ্দীন। একই বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ১৯৯২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। এই পদে আট বছর দায়িত্ব পালনের আগে দুই মেয়াদে উপ-উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এমাজউদ্দীন।
১৯৯৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরে যাওয়ার পর ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ-ইউডা’র উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এমাজউদ্দীন। এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের সঙ্গেও সম্পৃক্ততা ছিল তার।
গবেষক-পর্যালোচক হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে অধ্যাপক এমাজউদ্দীনের। তিনি আমৃত্যু তুলনামূলক রাজনীতি, প্রশাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশের রাজনীতি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক বাহিনী সম্পর্কে গবেষণা করে গেছেন। তার লিখিত গ্রন্থের সংখ্যা ৭০ টির অধিক। দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা জার্নালে তার প্রকাশিত গবেষণামূলক প্রবন্ধের সংখ্যা শতাধিক।
শিক্ষাক্ষেত্রে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৯২ সালে একুশে পদক লাখ করেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন।
এ ছাড়া মাইকেল মধুসূদন দত্ত গোল্ড মডেল, শেরে বাংলা স্মৃতি স্বর্ণপদক, ঢাকা সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট গোল্ড মেডেল, মহাকাল কৃষ্টি চিন্তা সংঘ স্বর্ণপদক, জাতীয় সাহিত্য সংসদ স্বর্ণপদক, জিয়া সাংস্কৃতিক স্বর্ণপদক, রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম স্বর্ণপদকসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বহু পুরস্কার-সম্মাননা অর্জন করেন তিনি।
