পরীক্ষা ১০ লাখ শনাক্ত ২ লাখ ছুঁইছুঁই

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২০, ০৬:৪৪ এএম

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ১৩২তম দিনে অর্থাৎ ৪ মাস ১২ দিনের মাথায় নমুনা পরীক্ষা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ১০ লাখ পরীক্ষায় শতকরা ১৯ দশমিক ৮০ হারে দুই লাখের কাছাকাছি রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৪৬০টি নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ৩৪ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ৫১ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যা গত ১০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়াল।

সম্প্রতি নমুনা পরীক্ষা কমে যাওয়ায় শেষ এক লাখ পরীক্ষা হতে সময় লেগেছে তুলনামূলক বেশি ৮ দিন। যেখানে আগের এক লাখ পরীক্ষা হয়েছে ৭ দিনে এবং তার আগের এক লাখ পরীক্ষা হয়েছে মাত্র ৬ দিনে। তবে শেষ এক লাখ পরীক্ষায় যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। শেষ এক লাখ পরীক্ষায় ২৩ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার শতকরা হার ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ পরীক্ষায় ২৩ জনের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। অথচ আগের এক লাখ পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হারে এবং তার আগের এক লাখে শনাক্ত হয়েছিল ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে।

গতকাল নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ৬৮১টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৬০টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ৩ হাজার ৩৪ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ দিন শনাক্তের হার ছিল ২২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে আরও ৫১ জন এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছে আরও ১ হাজার ৭৬২ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট ১০ লাখ ৬ হাজার ৭৫১টি নমুনা পরীক্ষায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৫৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গড় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে ২ হাজার ৫৪৭ জন এবং সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৭২৫ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

তিনি জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের মধ্যে পুরুষ ৪০ ও নারী ১১ জন। সর্বোচ্চ ১৬ জন মৃত্যুবরণ করেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ ছাড়া ঢাকায় ১৩ জন, খুলনা ও বরিশালে ৬ জন করে, রংপুরে ৪ জন এবং রাজশাহী ও সিলেটে ৩ জন করে মৃত্যুবরণ করেছে। হাসপাতালে মারা গেছে ৪২ ও বাড়িতে ৯ জন। মৃতদের মধ্যে ২১-৩০ বছরের ১ জন, ৩১-৪০ বছরের ৩ জন, ৪১-৫০ বছরের ৭ জন, ৫১-৬০ বছরের ১৫ জন এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সের ২৫ জন।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৮১২ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছে মোট ১৮ হাজার ২৫০ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ২৬১ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছে মোট ৬০ হাজার ২২৬ জন। হটলাইনগুলোতে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ১ লাখ ১ হাজার ৭৩১টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছে ২ হাজার ২৪২ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে তুলনামূলক কম মৃত্যু : অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনা তুলনামূলক কম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মৃত্যুবরণ করা মোট ২ হাজার ৫৪৭ জন করোনা রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৫৫ জনই (৪৯ দশমিক ২৮ শতাংশ) ঢাকা বিভাগের। এরপর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামে ৬৫৫ জন (২৫ দশমিক ৭২ শতাংশ), খুলনায় ১৫০ জন (৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ), রাজশাহীতে ১৩১ জন (৫ দশমিক ১৪ শতাংশ), সিলেটে ১১৬ জন (৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ), বরিশালে ৯৭ জন (৩ দশমিক ৮১ শতাংশ), রংপুরে ৮৭ জন (৩ দশমিক ৪২ শতাংশ) এবং ময়মনসিংহ বিভাগে সর্বনিম্ন ৫৬ জন (২ দশমিক ২০ শতাংশ) করোনা রোগী মারা গেছে।

কভিড হাসপাতালে খালি বেড ও আইসিইউর তথ্য : বুলেটিনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোতে ৬ হাজার ৩২৫টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৪ হাজার ৩৫৬টি ও ১৪২টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ৩৫টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৬৫৭টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৩৪৭টি ও ৩৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ২০টি। এর বাইরে দেশের অন্যান্য কভিড হাসপাতালে ৭ হাজার ৭৩৩টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫ হাজার ৯৩৩টি ও ১৯৫টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১১১টি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত