দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে। গতকাল শনিবার দেশে করোনা শনাক্তের ১৩৩তম দিনে আরও ২ হাজার ৭০৯ জন নতুন রোগী শনাক্তের তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে দেশে শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ২ হাজার ৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর ১৮ জুন রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়ায়। তার ঠিক এক মাসের মাথায় ১৮ জুলাই করোনা রোগীর সংখ্যা দুই লাখ ছাড়াল। অর্থাৎ গত এক মাসেই এক লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছে। যেখানে প্রথম এক লাখ রোগী শনাক্ত হতে সময় লেগেছিল ৩ মাস ১৩ দিন। এ ছাড়া সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শেষ এক লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছে উচ্চহারে। যে পরিমাণ নমুনা পরীক্ষায় প্রথম এক লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছিল, তার চেয়ে লক্ষাধিক কম পরীক্ষাতেই শেষ এক লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রথম এক লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৮ দশমিক ০২ শতাংশ হারে, আর শেষ এক লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছে শতকরা ২২ দশমিক ১৬ শতাংশ হারে।
নমুনা পরীক্ষা কমতে কমতে গত ২৪ ঘণ্টায় তা ১০ হাজারে নেমে এসেছে। গতকাল অধিদপ্তর জানায়, এদিন ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩৪ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানানো হয়। নিয়মিত বুলেটিনে গতকাল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১০ হাজার ৬৩২টি। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা হয়েছে ১০ হাজার ৯২৩টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ২ হাজার ৭০৯ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৩৪ জন এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৩৭৩ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ১০ লাখ ১৭ হাজার ৬৭৪টি নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ২ হাজার ৬৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গড় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ৫৮১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৯৮ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
ডা. নাসিমা জানান, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৩০ লাখ ৪৬ হাজার বিবেচনায় প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৩৯ দশমিক ৩২ জনের। এ ছাড়া প্রতি ১০ লাখে সুস্থ হয়েছেন ৬৭৫ দশমিক ২৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৫ দশমিক ৮৩ জন।
তিনি জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ২৯ জন ও নারী ৫ জন। সর্বোচ্চ ১৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া খুলনায় ৬ জন, রাজশাহীতে ৫ জন, সিলেটে ৪ জন, চট্টগ্রামে ৩ জন এবং ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে ১ জন করে মারা গেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩২ জন ও বাড়িতে ২ জন। মৃতদের মধ্যে ২১-৩০ বছরের ১ জন, ৩১-৪০ বছরের ১ জন, ৪১-৫০ বছরের ১ জন, ৫১-৬০ বছরের ১৫ জন, ৬১-৭০ বছরের ৫ জন, ৭১-৮০ বছরের ১০ জন এবং ৮১-৯০ বছরের ১ জন।
বুলেটিনে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৭৭৯ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ১৮ হাজার ৪৯৮ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে আরও ১ হাজার ৭৮১ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৯ হাজার ৬৯৩ জন। হটলাইনগুলোতে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ৯৭ হাজার ২০৩টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ৫৯৫ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
কভিড হাসপাতালে খালি বেড ও আইসিইউর তথ্য : বুলেটিনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোতে ৬ হাজার ৩২৫টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৪ হাজার ২৯৩টি ও ১৪২টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ৩৯টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৬৫৭টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৩৫০টি ও ৩৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১৯টি। এর বাইরে দেশের অন্যান্য কভিড হাসপাতালে ৭ হাজার ৭৩৩টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫ হাজার ৮৯০টি ও ১৯৫টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১০৫টি।
কভিড হাসপাতালগুলোতে অধিকাংশ বেড খালি থাকার কারণ হিসেবে ডা. নাসিমা বলেন, ‘আমাদের টেলিমেডিসিন সেবাটি অনেক বেশি কার্যকর। প্রতিদিন এতে ৭০ জন চিকিৎসক কাজ করে যাচ্ছেন। শতকরা ৮০ ভাগ রোগীর লক্ষণ ও উপসর্গ মৃদু থাকায় তারা বাসায় থেকেই টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। ১৫ শতাংশ রোগীর মাঝারি ধরনের উপসর্গ হয় এবং ৫ শতাংশের উপসর্গ জটিল আকারে দেখা দেয়, তাদেরই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। যেহেতু মৃদু উপসর্গের রোগীই বেশি পাওয়া যাচ্ছে, সেজন্যই হয়তো হাসপাতালের বেডসমূহ খালি আছে। তারা বাসায় থেকেই আমাদের শক্তিশালী টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
