একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ পিটিশন (রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন) প্রস্তুত হয়েছে। আপিল বিভাগের রায়ের অনুলিপি (সার্টিফায়েড কপি) পাওয়া সাপেক্ষে আজ রবিবার সর্বোচ্চ আদালতে এ আবেদন করা হতে পারে বলে গতকাল শনিবার জানিয়েছেন তার আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আবেদনে খালাস চেয়ে ১৪টি যুক্তি (গ্রাউন্ড) তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে শিশির মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৪টি গ্রাউন্ডে ২৩ পৃষ্ঠার রিভিউ পিটিশন তৈরি করেছি। আগামীকাল (আজ) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে রায়ের সার্টিফায়েড কপি (সত্যায়িত অনুলিপি) পাওয়ার কথা রয়েছে। কপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা রিভিউ পিটিশন দায়ের করব।’
আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ পিটিশন দায়ের করতে হয়। এ প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, ‘গত ১৫ মার্চ আপিল বিভাগের রায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু ওই সময় থেকে সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন ছুটি শুরু হয়। এরপর করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতির কারণে আদালত বন্ধ হয়ে যায়। এখন নিয়ম অনুযায়ী ১৫ দিনের যে সময়সীমা সেটি তামাদি আইন অনুযায়ী বারিত নয়। এখনো রিভিউ পিটিশন ফাইল করার পর্যাপ্ত সময় আমাদের হাতে রয়েছে।’
মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আজহারের আপিল আংশিক মঞ্জুর করে গত বছরের ৩১ অক্টোবর সর্বোচ্চ সাজা বহাল রাখে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ রায় দেয়। গত ১৫ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে বিচারপতিদের স্বাক্ষরিত রায়ের অনুলিপি বিচারিক ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। আইন অনুযায়ী রিভিউ আবেদন খারিজ হলে কারাবিধি অনুযায়ী তার ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থা নেবে সরকার। অবশ্য দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের সুযোগ থাকবে আজহারের সামনে। যদি সেই আবেদনও নাকচ হয়ে যায় তাহলে দণ্ড কার্যকরে কোনো বাধা থাকবে না।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এ টি এম আজহারকে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের রংপুর শাখার তখনকার সভাপতি ও আলবদর বাহিনীর রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার এ টি এম আজহারকে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার তিনটি অভিযোগে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
