শিশু গৃহকর্মীর গায়ে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২০, ০৬:৪৮ এএম

রাজধানীর রূপনগরের বাসায় নির্যাতনের শিকার হয়েছে আছিয়া নামে এক শিশু গৃহকর্মী। গতকাল শনিবার তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। এ সময় শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় ফোসকা ও নির্যাতনের নানা চিহ্ন। অভিযানে গৃহকর্তা সাজ্জাদুল বাশার ও গৃহকর্ত্রী শাহনাজ বেগমকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন।

রূপনগর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, তুচ্ছ কারণে বা কাজে সামান্য ভুল হলেই ১০ বছর বয়সী শিশুটিকে মারাত্মক নির্যাতন করা হতো। তার শরীরে সেসব নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে গতকাল সকালে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। শিশুটির স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এলে এ ঘটনায় মামলা হবে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নিপীড়ক দম্পতিকে আদালতে পাঠানো হবে। পুলিশ জানায়, রূপনগর আবাসিক এলাকার ৯ নম্বর সড়কের ১৮ নম্বর বাড়ির তিনতলায় কাজ করত আছিয়া। গৃহকর্তা সাজ্জাদুল বাশার একটি ক্লিনিকে কাজ করেন। তার স্ত্রী শাহনাজ গৃহিণী। নোয়াখালীর হাতিয়ার বাসিন্দা আছিয়াকে চার বছর আগে তারা গৃহকর্মী হিসেবে কাজে নেন। ছোট্ট শিশুটি প্রায়ই কাজে ভুল করে ফেলত। আর এ কারণে তার ওপর নেমে আসত নিষ্ঠুর নির্যাতন। বিভিন্ন সময়ে তাকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। ঢেলে দেওয়া হয়েছে গরম পানি। সর্বশেষ গতকাল সকালেও তার গায়ে গরম পানি ঢেলে দিলে শিশুটি চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। তার কান্না শুনে প্রতিবেশীরা বিষয়টি পুলিশকে জানান।

রূপনগর থানার এসআই আসাদুজ্জামান জানান, বেলা ১১টার দিকে পুলিশ পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় শিশুটি পুলিশ দেখে প্রথমে ভয় পায়। পরে তাকে বুঝিয়ে বলা হলে সে তার ওপর নির্যাতনের ঘটনাগুলো বর্ণনা করে। বাসার সামনে উপস্থিত প্রতিবেশীরাও পুলিশকে জানান, তারা প্রায় প্রতিদিনই শিশুটির চিৎকার শোনেন।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে কাজে নিয়োগ দিয়ে অপরাধ করেছেন এই দম্পতি। তার ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। অথচ তাদের দুই সন্তানের একটির বয়স আট বছর। আছিয়া প্রায় সমবয়সী হলেও তার প্রতি বিন্দুমাত্র মমতা দেখাননি গৃহকর্ত্রী। এতে গৃহকর্তারও প্রশ্রয় আছে বলে জানা গেছে। এ কারণে দুজনকেই থানায় আনা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত