বন্যা থেকে পালিয়ে ক্লান্ত গন্ডার, ঘুমিয়ে পড়ল সড়কে

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২০, ০৯:৪১ এএম

ভারতের আসামে ধেয়ে আসা প্রবল বন্যায় বিপন্ন বন্যপ্রাণ। স্থানীয় কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান ও টাইগার রিজার্ভের অসংখ্য পশু পালিয়ে নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছে। তেমনই একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

একটি বয়স্ক গন্ডার পালাতে পালাতে এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল যে, জাতীয় সড়কের পাশেই ঘুমিয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, বন বিভাগের কর্মীরা প্রাণীটিকে বাঁচিয়ে যান চলাচল কীভাবে স্বাভাবিক রাখা যায় সেই চেষ্টা করছেন।

বনকর্মীরা চলাচলকারীদের কাছেও অনুরোধ করছেন কোনোভাবেই গন্ডারটিকে উত্যক্ত না করতে। গাড়িগুলোকে খুবই ধীরে, আওয়াজ না করে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার আবেদন জানান।

কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান ও টাইগার রিজার্ভের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে ভিডিওটি শেয়ার করে লেখা হয়, “বাগোরি রেঞ্জের বান্দার ধুবি এলাকায় একটি গন্ডার ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর শুয়ে ছিল। পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতায় আমরা তাকে রক্ষা করছি। ধীরে গাড়ি চালান।”

জানা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে এই উদ্যানের অধিকাংশ প্রাণী লোকালয়ে নয়তো জাতীয় সড়কে চলে আসছে। কয়েকদিন আগে দুটি বাঘও জঙ্গল সংলগ্ন  বাড়িতে চলে আসে। বন্যার জেরে মায়ের থেকে আলাদা হয়ে যায় এক গন্ডার শাবক। শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীরা তাকে উদ্ধার করলেও মাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি এখনো। বন্যপ্রাণ পুনর্বাসন এবং সংরক্ষণ কেন্দ্র বা সিডব্লিউসি-র একটি দল নৌকায় করে ওই গন্ডার শাবকটিকে উদ্ধার করে।

ইতিমধ্যেই ওই শাবকটির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যায়, একটি ডিঙি নৌকা করে গন্ডারটিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার পিঠে হাত বুলিয়ে আদর করে বিদায় জানাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। আপাতত একটি সংরক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে গন্ডার শাবকটিকে।

আসামের কাজিরাঙা বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির গন্ডারের বাসস্থান। সেখানকার আগ্রাতলি রেঞ্জ থেকে বন্যার জলে ভেসে যায় এই গণ্ডার শাবক। এবারের ভয়াবহ বন্যায় ৩৩টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত। ৭১ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, পাশাপাশি কাজিরাঙার ৭৬টি বন্যপ্রাণীরও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৬টি গন্ডার রয়েছে। ১৭০টি প্রাণীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল কাজিরাঙা সফর করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত