এক সপ্তাহে হটলাইনে কল নেমেছে অর্ধেকে

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২০, ০৫:২৬ এএম

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ২ হাজার ৪৫৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দেশে করোনা শনাক্তের ১৩৪তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজারেরও বেশি পরীক্ষায় তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। রোগী শনাক্তের হার ছিল ২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। একই সময়ে আগের রোগীদের মধ্য থেকে আরও ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে। এদিকে সম্ভাব্য করোনা রোগীদের ফোনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার হটলাইনগুলোতে সম্প্রতি কলের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কল সংখ্যা নেমেছে অর্ধেকে। এর আগে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, করোনা নিয়ে মানুষের আতঙ্ক কমে যাওয়ায় ও ফি নির্ধারণের কারণে পরীক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেছে। তাই সম্প্রতি নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমে গেছে। এবার হটলাইনে সেবা নেওয়ার আগ্রহও কমল।

গতকাল নিয়মিত বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১০ হাজার ৯৩৫টি। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা হয়েছে ১০ হাজার ৬২৫টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ২ হাজার ৪৫৯ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৩৭ জন এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫৪৪ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ১০ লাখ ২৮ হাজার ২৯৯টি নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৪ হাজার ৫২৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গড় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ৬১৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৬৪২ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ ও মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

তিনি জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ২৯ জন ও নারী ৮ জন। সর্বোচ্চ ১৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৮ জন, খুলনায় ৭ জন, রাজশাহীতে ৩ জন, সিলেটে ২ জন এবং রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন করে মারা গেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩২ জন ও বাড়িতে ৫ জন। মৃতদের মধ্যে ২১-৩০ বছরের ১ জন, ৩১-৪০ বছরের ১ জন, ৪১-৫০ বছরের ৩ জন, ৫১-৬০ বছরের ৬ জন, ৬১-৭০ বছরের ২০ জন, ৭১-৮০ বছরের ৪ জন, ৮১-৯০ বছরের ১ জন এবং ৯১-১০০ বছরের ১ জন রয়েছেন।

বুলেটিনে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৬০৯ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৫৯১ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৬৮৬ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৯ হাজার ৮৫৪ জন। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ২ হাজার ৬৮০ জন এবং তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

এক সপ্তাহে হটলাইনে কল নেমেছে অর্ধেকে : সম্ভাব্য করোনা রোগীরা যাতে ফোন কলের মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন, সে জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআর বেশ কয়েকটি হটলাইন চালু করেছে। হটলাইনগুলোতে কল করে অসংখ্য মানুষ করোনাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি হটলাইনগুলোতে কল অর্ধেকে নেমেছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ৯৬ হাজার ২৮৩টি। অথচ এক সপ্তাহ আগে গত ১২ জুলাই হটলাইনগুলোতে কল এসেছিল ১ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৮টি। এক সপ্তাহ ধরে ক্রমান্বয়ে কমেছে কল সংখ্যা।

কভিড হাসপাতালে খালি বেড ও আইসিইউর তথ্য : বুলেটিনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোতে ৬ হাজার ৮৯৯টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৪ হাজার ৭০৬টি ও ২২৫টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ৭৫টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৬৬২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৩৬২টি ও ৩৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১৮টি। এর বাইরে দেশের অন্যান্য কভিড হাসপাতালে ৭ হাজার ৭৩৩টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫ হাজার ৮৯০টি ও ১৯৮টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১০৩টি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত