বিলসের আলোচনা সভা

শ্রমিক সুরক্ষায় স্থায়ী মানদণ্ড প্রয়োজন

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২০, ০৬:২৬ এএম

করোনা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও স্থায়ী মানদণ্ড প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিল্স) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনায় এ মত দেন তারা। ‘কভিড-১৯ এবং শ্রমিকের সামাজিক সুরক্ষা : সংকট উত্তরণে সমন্বিত এবং টেকসই সমাধানের পথ অন্বেষণ’ শীর্ষক ওই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বিলস চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান সিরাজ। এবং মহাসচিব নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে তিনি এটি সঞ্চালনা করেন।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, ‘কভিড-১৯ সময়ে অর্থনীতি পুনর্গঠনে ও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের যাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। কিন্তু সে প্রবৃদ্ধির তুলনায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। প্রকৃত মজুরি হারও হ্রাস পেয়েছে। শ্রমিকের প্রাপ্তির তুলনায় পুঁজির প্রাপ্তি বেশি হচ্ছে।’

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মিকাইল শিপার বলেন, ‘প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ব্যাংক নির্ভর হলেও ব্যাংক এখনো গণমুখী হয়নি। এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’ কর্মসংস্থান সুরক্ষায় মালিকপক্ষ যথেষ্ট সচেতন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নতুন কর্মসংস্থান বিনির্মাণে মালিকদের তেমন তৎপরতা লক্ষ করা যায় না। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা কভিড-১৯ সময়ে চূড়ান্ত নিম্ন পর্যায়ে চলে গেছে। এজন্য বাংলাদেশকে বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে হবে।’

সংসদ সদস্য শামসুন্নাহার ভূঁইয়া বলেন, ‘চীনের অর্থনৈতিক পরিবর্তন আমাদের শিল্প-বাণিজ্য ক্ষেত্রে যে প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।’ বেকার যুবক এবং কভিড-১৯-এর কারণে চাকরি হারানো শ্রমিকদের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখতে না পারলে শ্রমিকের কর্মসংস্থানকে ধরে রাখা যাবে না। সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারকে উজ্জীবিত রাখতে হবে। প্রণোদনার মাধ্যমে শ্রমিকের কর্মসংস্থানকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, রেশনিং ব্যবস্থাকেও ধরে রাখতে হবে।’

ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম বলেন, ‘শ্রমিকরা সবসময়ই শিল্প সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চায়। উদ্যোক্তারা এটির সুযোগটি গ্রহণ করে কিন্তু এগিয়ে নিতে চায় না। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক মর্যাদা না থাকলে এটিকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। আর সে কারণে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ব্যাহত হয়।’

আইএলও সাউথ এশিয়ার ডিসেন্ট ওয়ার্ক টেকনিক্যাল টিমের ওয়ার্কার্স অ্যাক্টিভিটিস স্পেশালিস্ট সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ‘বাংলাদেশের শ্রম আইনে শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এটি অবস্থার ওপর বিবেচনা করে নেওয়া হয়।’ দয়াভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা গ্রহণ না করে এটিকে অধিকারভিত্তিক করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এতে আরও বক্তব্য দেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি ও বিল্স উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মেসবাহউদ্দীন আহমেদ, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ এর যুগ্ম সমন্বয়কারী ও বিল্স উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য নইমুল আহসান জুয়েল, আইএলও’র ইআইআই প্রজেক্টের ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নওশীন শাহ্ এবং আইএলও’র এসডি অ্যান্ড আরআই প্রজেক্টের প্রোগ্রাম অফিসার জামিল আনসার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত