পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে উৎসবভাতা ও ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে চলতি মাসের অর্ধেক বেতন পাচ্ছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এছাড়া করোনার বিস্তার রোধে ঈদের ছুটি তিন দিন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে সরকার-মালিক-শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৬৫তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে করোনাকালের এ সংকটে আগাম বেতনের অর্থ সংস্থান নিয়ে দেশ রূপান্তরের কাছে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন কয়েকটি ছোট কারখানার মালিক। তারা বলছেন, মে-জুনে তাদের যেসব পণ্য রপ্তানি হয়েছে তার বেশিরভাগ অর্থ এখনো ছাড় হয়নি। প্রণোদনা ঋণের অর্থে বেতন দিলেও উৎসবভাতা ও কর্মকর্তাদের বেতন নিজস্ব অর্থায়নে দিতে হচ্ছে। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে সরকারের প্রণোদনার অর্থে আগাম বেতন দেওয়াও সম্ভব হবে না। তাই এ টাকা তাদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সংকটে সরকার, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রত্যক্ষ সহায়তা চেয়েছেন তারা।
শ্রম আইন অনুযায়ী, যেসব শ্রমিক চাকরির মেয়াদ টানা এক বছর পূরণ করেছেন তারা মূল বেতনের সর্বনিম্ন অর্ধেক ও সর্বোচ্চ মূল বেতনের সমান উৎসবভাতা পাবেন। তবে দেশে সাধারণত ছয় মাস কাজ করেছেন এমন শ্রমিকদেরও উৎসবভাতা দেওয়া হয়ে থাকে। অনেক কারখানা তিন মাস কাজ করেছে এমন শ্রমিকদেরও ভাতা দেয়। আইনে জুলাইয়ের বেতন আগস্টের প্রথম সাত কর্মদিবসের মধ্যে দেওয়ার বিধান রয়েছে।
আগাম বেতনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব কেএম আবদুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘টিসিসির বৈঠকে সব সিদ্ধান্তই ঐকমত্যের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে বেতন-বোনাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের আগাম বেতনের বিষয়টি বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক মেনে নিয়েছেন। সুতরাং কারও এটা বলার সুযোগ থাকবে না যে আমাদের ওপর আগাম বেতন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
অর্থের সংস্থানের বিষয়ে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছোট কারখানাগুলোর পক্ষে আগাম বেতন দেওয়া খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এখন ব্যাংক যদি সহায়তা করে তাহলে খুব একটা কষ্ট হবে না। আমরা চাই করোনাকালের এ দুর্দিনে সব শ্রমিক হাসিমুখে ঈদ উদযাপন করুক। যেভাবেই হোক, সবাই মিলে চেষ্টা করব যাতে কারও অর্থের সমস্যা না হয়।’
বৈঠক সূত্র জানায়, আজকের (গতকাল) বৈঠকে মূল আলোচনা হয়েছে জুলাইয়ের আগাম বেতন নিয়ে। কারখানাগুলো আগাম বেতন না দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেয়। কিন্তু শ্রমিক প্রতিনিধিরা জুলাইয়ের আগাম বেতনের বিষয়ে অনড় থাকে। পরে বিজিএমইএ সভাপতি জুলাইয়ের অর্ধেক বেতন ৩০ তারিখের মধ্যে দেওয়ার বিষয়ে মত দেন।
সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকদের ঈদে কর্মস্থল এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে কোনো শ্রমিককে যেন ছাঁটাই করা না হয় সেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
টিসিসির সভায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায়, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একেএম মিজানুর রহমান, বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টুসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
