এই দিনে

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২০, ০৬:৩৮ এএম

কথাসাহিত্যিক মাহমুদুল হক ১৯৪০ সালের ১৬ নভেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বারাসাতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সিরাজুল হক ছিলেন অর্থ বিভাগের উপসচিব। মায়ের নাম মাহমুদা। ১০ ভাইবোনের মধ্যে মাহমুদুল হক ছিলেন চতুর্থ।  ১৯৫০ সালে বাবার ঢাকায় চলে আসা সূত্রে মাহমুদুল হকও চলে আসেন। ১৯৫৭ সালে ঢাকার ওয়েস্ট এন্ড হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৫৯ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। তবে পেশা হিসেবে ব্যবসা বেছে নেন। মাহমুদুল হক খুব বেশি লেখালেখি করেননি। নিভৃতচারী ছিলেন। তার লেখায় স্থান পেয়েছে বিচিত্র মানুষ, যাদের সবাই উন্মুল, কোথাও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি মনে করতেন, মানুষ সর্বদাই শেকড়হীন। ১৯৮২ সালের দিকে তিনি লেখালেখি ও জাগতিক কামনা-বাসনা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। প্রথম উপন্যাস ‘অনুর পাঠশালা’ ১৯৬৭ সালে লিখিত। কিন্তু উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ‘যেখানে খঞ্জনা পাখি’ নামে ১৯৭৩ সালে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় উপন্যাস ‘নিরাপদ তন্দ্রা’ (১৯৭৪) ও ‘জীবন আমার বোন’ (১৯৭৬)। এরপর ‘খেলাঘর’, ‘কালো বরফ’, ‘মাটির জাহাজ’ এবং দীর্ঘ বিরতিতে ‘অশরীরী’ প্রকাশিত হয়। একটি মাত্র গল্পগ্রন্থ ‘প্রতিদিন একটি রুমাল’ ও একটি শিশুতোষ বই ‘চিক্কোর কাবুক ছাড়া’। এ ছাড়া চারটি অনুবাদ গ্রন্থ রয়েছে। অগ্রন্থিত লেখার মধ্যে রয়েছে শতাধিক গল্প ও অন্তত দুটি উপন্যাস। এগুলো পরে বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। উপন্যাস দুটি হচ্ছে ‘দ্রৌপদীর আকাশে পাখি’ ও ‘পাতালপুরী’। তিনি শিশুদের পত্রিকা ‘আলাপনী’, ‘শাহীন সেতারা’ প্রভৃতিতে নিয়মিত লিখতেন। তার ‘খেলাঘর’ উপন্যাসটি চলচ্চিত্ররূপ পেয়েছে। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। ২০০৮ সালের ২১ জুলাই মাহমুদুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত