আড়াই হাজার টাকা পাইয়ে দিতে ৫০০ টাকা নেন চেয়ারম্যান!

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২০, ০৩:৪৪ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার আড়াই হাজার টাকা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে মন্দরী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সামছুল হক ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রেক্ষিতে বানিয়াচং উপজেলা প্রশাসন মঙ্গলবার এক সদসস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

শেখ সামছুল হক হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি।

বানিয়াচংয়ের মন্দরী ইউনিয়নের  ১৪ জন সুবিধাভোগী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দেয়া অভিযোগে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২ হাজার ৫শ’ টাকা প্রণোদনার ভাতার তালিকায় ইউপি চেয়ারম্যান তাদের নাম তালিকাভূক্ত করেন। তালিকায় ভুল হয়েছে জানিয়ে সম্প্রতি তাদেরকে অফিসে যেতে বলা হয়। সেখানে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫শ’ টাকা করে আদায় করেন তিনি।

এ  সময় যারা ভুল সংশোধনীর টাকা দেবে না, তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার হুমকি দেন ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক।

অভিযোগকারীরা হলেন- ওই ইউনিয়নের তোতা মিয়া, কামাল মিয়া, ইলিয়াস মিয়া, সোয়াই মিয়া, আশিক মিয়া, আবিদুর রহমান, আঙ্গুরা খাতুন, আজিজুল মিয়া, আয়াত আলী, শাহেদ, আবুল কালাম, আবদাল মিয়া, কাজল মিয়া, জহুর বানু।

মঙ্গলবার অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সামছুল হক জানান, ‘অভিযোগটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।’

 সরকারি অর্থসহায়তার তালিকায় স্বজনদের নাম, নবীগঞ্জ পৌর-কাউন্সিলর বরখাস্ত

সরকারের নগদ আড়াই হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তার তালিকায় নিজের পরিবার-পরিজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নবীগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর মোছা. রোকেয়া বেগম সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।

তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ এনে মহিলা কাউন্সিলর রোকেয়া খাতুনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সম্প্রতি অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌর-১ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান নিশ্চিত করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর মোছা. রোকেয়া খাতুন করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র/নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে আড়াই হাজার টাকা করে প্রদান সংক্রান্ত তালিকায় তিনি নিজের স্বামী, মেয়ে, আপন দুই ভাবি, আপন ভাতিজি এবং আপন ভাইয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

এরূপ অপরাধমূলক কর্মকান্ড পৌর পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থি বলে সরকার মনে করে। তাই স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) অনুযায়ী তাকে মহিলা কাউন্সিলের পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত