সেরা চিন্তকদের একজন বাংলাদেশের মেরিনা

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২০, ০৬:১৪ এএম

সংগীত, চিত্রকলা কিংবা সাহিত্যের মতো সৃজনশীল একটি পেশা স্থাপত্য। বিজ্ঞান আর শিল্পের সমন্বয়ের এটি একটি জ্ঞানকাণ্ডও হয়ে উঠেছে। যোগ হয়ে দর্শনও। কোনো স্থাপনা তার কালের বা স্থানের শিল্প-সাহিত্য, কৃষ্টি-কালচার, ইতিহাস, প্রযুক্তি, সভ্যতা, সময় ও শিল্পীর শিল্পবোধের প্রতিফলন ঘটায়। একজন সত্যিকারের স্থপতির কাজে উদ্ভাসিত হয় দর্শনেরও। বাংলাদেশের স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমের কাজেও প্রতিফল ঘটেছে তার দর্শনের। বিশেষ করে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম স্থাপনা নির্মাণে তিনি দেশে অদ্বিতীয়। নিজের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এর আগেই জিতেছেন আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার।

এবার নিজের সৃজনশীলতার জন্য তিনি জায়গা করে নিলেন বিশ্বের ৫০ চিন্তাবিদের তালিকায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাময়িকী প্রসপেক্ট গত ১৪ জুলাই এ তালিকা প্রকাশ করেছে।

প্রসপেক্ট সাময়িকীতে বলা হয়েছে, ব্যবহারিক ধারণা ও চিন্তা সম্পর্কে অজানা প্রশ্নের উত্তর দিতে মানুষের মাঝে উপলব্ধি তৈরির চেয়ে জরুরি কিছুই নেই। প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে ভবন তৈরিতে বাংলাদেশি স্থপতি তাবাসসুম তার তৈরি নকশাগুলোতে আমরা সম্মিলিতভাবে পৃথিবীতে কী করে যাচ্ছি তার চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছেন।

প্রসপেক্ট বলছে, সম্প্রতি তিনি স্থানীয় উপকরণ দিয়ে হালকা ওজনের ঘর তৈরি করে দেখিয়েছেন যা সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো যায়। নদী বা সমুদ্রের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশকে নিয়মিতই যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তার একটি সমাধান দেবে এ প্রযুক্তিটি।

ম্যাগাজিনটিতে বলা হয়েছে, মেরিনা তাবাসসুম প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মিল রেখে ভবন নির্মাণ এবং পরিবেশের দ্বারা উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলো গ্রহণ করে নকশা তৈরি করায় দারুণ অবদান রেখেছেন। তারই স্বীকৃতি এটি।

প্রসপেক্ট ম্যাগাজিনে বলা হয়েছে, স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমের নকশা করা স্থানীয় উপকরণের হালকা ওজনের বাড়িগুলো স্টিলের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম এবং পানির মাত্রা বেড়ে গেলে সেগুলো সরানো যায়। বিষয়গুলো আন্তর্জাতিকভাবে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে।

টেরাকোটা ইট দিয়ে নির্মিত রাজধানীর বায়তুর রউফ মসজিদের নকশা করেছেন মেরিনা। সুলতানি যুগের আদলে তৈরি মসজিদটিকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এমনভাবে তৈরি করা যাতে পানি এলে এটি ভেসে থাকতে পারে। এই স্থাপনার জন্যই তিনি আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার পান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত