‘ব্যাংকিং ইনকোয়্যারি কমিশন’ গঠনের নির্দেশনা না থাকায় ব্যাংক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করা হয়েছে।
রিট আবেদনকারী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ গতকাল মঙ্গলবার আবেদনটি করেন। ওই আইনজীবী গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ব্যাংক খাতে জালিয়াতি, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপিদের নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন যুক্ত করে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রিট আবেদনটি করা হয়। তাতে ‘ব্যাংকিং ইনকোয়্যারি কমিশন’ গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়। হাইকোর্টে মামলাটি বিচারাধীন থাকাকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্র্তৃক ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ঋণখেলাপিদের পুনঃতফসিলের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। সে সময় বিজ্ঞপ্তিটি আদালতে চ্যালেঞ্জ করলে আদালত তাতে স্থিতাবস্থা জারির আদেশ দেয়। এরপর হাইকোর্ট গত বছর ৩ নভেম্বর কমিশন গঠনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিয়ে রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেয়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হয়েছে।
বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে গত ২০ বছরে এক কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপি, ঋণের সুদ মওকুফ, অর্থ পাচার ও অর্থ পাচারকারীদের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রতিবেদন চাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকে দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নে রুল জারি করে। একই সঙ্গে আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধে কমিশন গঠন করে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নেও রুল জারি করে আদালত।
গত বছর ১৬ মে ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে নতুন সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ঋণখেলাপিদের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছরে খেলাপি ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে রিটকারী পক্ষের সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে ২১ মে হাইকোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা বিজ্ঞপ্তির ওপর ওই বছরের ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা দেয়। এরপর স্থিতাবস্থার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো হয়। এরই মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে অর্থ বিভাগ আপিল বিভাগে আবেদন করে। গত বছরের ২ জুলাই হাইকোর্টের এই আদেশটি ৮ জুলাই (গতকাল) পর্যন্ত স্থগিত করে এর ওপর শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়েছিল চেম্বার আদালত। এরপর ৮ জুলাই আপিল বিভাগ শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশ দুই মাস পর্যন্ত স্থগিত করে। তবে শর্ত হিসেবে বলা হয়, কোনো ঋণখেলাপি এই সুবিধা নিলে এই সময়ের মধ্যে নতুন করে তিনি কোনো ঋণ পাবেন না। পাশাপাশি এ সংক্রান্তে হাইকোর্টের জারি করা রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ আসে। রুলের শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৩ নভেম্বর রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
