করোনা সনদ জালিয়াতির সত্যতা মিলল তদন্তে

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২০, ০৬:২৬ এএম

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ প্রদানের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর সুপারিশ করেছে কমিটি। কমিটির পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুফ আলী গত সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া কমিটির প্রতিবেদন এ সুপারিশ করেন।

এর আগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ বিক্রি হচ্ছে উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে। করোনা পরীক্ষার কারবারে জড়িত রিজেন্ট ও জেকেজি নিয়ে দেশজুড়ে যখন তোলপাড় চলছিল তখন খুলনায় করোনা পরীক্ষার সনদ বিক্রির খবরে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। অভিযোগ তদন্তে গত ১৬ জুলাই দুপুরে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ডেপুটি সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের পরিচালকের একজন প্রতিনিধি ছিলেন। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও একদিন পর গত সোমবার বিকেলে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগ ছিল, খুমেক হাসপাতালের আউট সোর্সিং কর্মচারী (লিফটম্যান) নওশাদ অর্থের বিনিময়ে নগরীর বিকে রায় ক্রস রোডের তানিয়া বেগমকে (নমুনা আইডি কেএমসি-২০০২৩) ও পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকার শামীম আহমেদকে (নমুনা আইডি কেএমসি-১৯০৩১) করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট প্রদান করেন। কিন্তু প্রকৃত নমুনা পরীক্ষায় তাদের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ফলে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। তাদের যে আইডির মাধ্যমে নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল তাও ভুয়া বলে তদন্তে প্রমাণ হয়েছে।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তদন্তে ভুয়া করোনা সনদ প্রদানের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত নওশাদকে পুলিশ খুঁজছে। তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এ ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত