উজানে পানি কমতে থাকায় সিরাজগঞ্জের ৯ উপজেলায়ও বন্যার পানি ধীর গতিতে কমতে শুরু করেছে। কিন্তু বন্যার পানি কমলেও যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার এখনো ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সিরাজগঞ্জের বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে, যমুনার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কাজীপুর উপজেলার শুভগাছা, সদর উপজেলার শিমলা, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী, চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া ও এনায়েতপুর থানার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। বন্যার পানি কমলেও ভোগান্তি কমেনি বন্যা আক্রান্ত মানুষের।
দ্বিতীয় দফা বন্যায় জেলার কাজীপুর, সদর,বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলার ৫১ টি ইউনিয়নে এখনো বন্যার পানি থইথই করছে। এর মধ্যে ৩৫টি ইউনিয়নের বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে ক্ষতি হয়েছে। এ সকল এলাকার সোয়া দুই লাখ মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছেন।
এদিকে গত ২দিনে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় বাঁধে ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে। এদিকে বন্যার পানি ধীর গতিতে কমতে থাকায় চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের যমুনা নদীর চরের ঘুষুরিয়া ও হিজুলিয়া গ্রামের অনেক বাড়িঘর এখনো হাঁটু পানিতে ডুবে রয়েছে। ফলে এ সব বাড়িঘরের অনেক মানুষই শিশু সন্তানদের নিয়ে নৌকায় অথবা ঘরের চালায় বসবাস করছে। অনেক স্থানে তিলের কাটা দিয়ে উঁচু মাচা করে তার উপড়ে গবাদিপশুকে রেখেছে।
সিরাজগঞ্জ পাউবোর পওর বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যমুনায় পানি কমছে ধীর গতিতে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি ৮ সেন্টিমিটার কমে বুধবার সকালে সিরাজগঞ্জ শহর পয়েন্টে এখনো বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ও কাজীপুর পয়েন্টে ৭১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এর কারণে দু-এক দিনের মধ্যে স্থিতিশীলতায় চলে আসার পাশাপাশি ঈদের আগে যমুনায় তৃতীয় দফা পানি বৃদ্ধি ও বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
