অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় ফের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পর্যবেক্ষণে থাকা দেশের নদ-নদীর ৭২টি পয়েন্টে নতুন করে গতকাল বুধবার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি নদ-নদীর ৩০টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন।
এদিকে গতকাল বিকেলে জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর প্রভাবে স্থানীয় নদ-নদীর পানি বেড়ে যায়। সরিষাবাড়ীর কামরাবাদ ইউনিয়নে ঝিনাই নদীর ওপর শুয়াকৈর সেতু দেবে গেলে পানির তোড়ে দুটি গার্ডার ও স্প্যানসহ ৪০ মিটার ভেঙে গদীগর্ভে বিলীন হয়। এতে ১৫টি গ্রামের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যে, গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১৭টি। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, নাটোর, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে।
ঢাকা জেলার আশপাশের নদীর পানি বৃদ্ধি পাবে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। তবে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকবে। আর তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে এবং বালু নদের ডেমরা পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
পানির তোড়ে ভাঙল সেতুর গার্ডার : জামালপুরে যমুনার পানি ফের বাড়তে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। গতকাল জেলার সরিষাবাড়ীর কামরাবাদ ইউনিয়নের ঝিনাই নদীর ওপর শুয়াকৈর সেতু দেবে গেলে দুটি গার্ডার, স্প্যানসহ ৪০ মিটার পানির তোড়ে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর ১৫টি গ্রামের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
কুড়িগ্রামে আড়াই লাখ বানভাসি : কুড়িগ্রামে আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি। এসব মানুষের মধ্যে পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে। খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকটে তারা মানবেতর জীবন পার করছে। তিস্তার পানি ফের বাড়তে থাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। গতকাল রাজারহাট উপজেলার একটি স্পার ভেঙে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।
গাইবান্ধায় পরিস্থিতির অবনতি : গাইবান্ধায় ফের বেড়েছে ব্রহ্মপুত্র, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। কয়েক দিন আগের জেগে ওঠা এলাকা ফের ডুবে গেছে। সব মিলে জেলার ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৭৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফের বিপদসীমার ওপরে তিস্তার পানি : উজানের পাহাড়ি ঢলে আবারও ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জে ফের বন্যা : পূর্বাঞ্চলের জেলা সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছিল। তবে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদী ও হাওরের পানি বেড়ে ফের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তৃতীয় দফায় বন্যায় ভোগান্তিতে পড়েছে লাখো মানুষ। জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানান, দুদিন ধরে ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বাড়ছে, যা আরও দুদিন অব্যাহত থাকবে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
সিরাজগঞ্জে পানি কমছে ধীরে : সিরাজগঞ্জের ৯ উপজেলায় বন্যার পানি ধীরগতিতে কমছে। যদিও যমুনার পানি এখনো বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমতে থাকায় কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা, সদর উপজেলার সিমলা, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী, চৌহালী উপজেলার খাসকাউলিয়া ও এনায়েতপুর থানার নদীতীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি : কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধের নিম্নাঞ্চলে ফের জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। রাস্তা-ঘাট, ঘরবাড়িতে হাঁটুপানি ওঠায় কয়েক লাখ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
ঢাকা যান্ত্রিক পাম্প হাউজ (শিমরাইল পাম্প হাউজ) বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রামপ্রসাদ বাছার জানান, ১২৮ কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন ৩টি পাম্পের মাধ্যমে পানি সরানোর চেষ্টা চলছে।
নীলফামারীতে ফের পানিবন্দি ৫ হাজার পরিবার : নীলফামারীতে গতকাল বিকেল থেকে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা নদীর পানি। এতে ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী ও গয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীবেষ্টিত ১৫টি গ্রামের প্রায় ৫ হাজার পরিবার নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
