বয়স্কদের মৃত্যুহার ২ শতাংশ বেড়েছে

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ০৪:৩৭ এএম

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরও ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার দেশে করোনা শনাক্তের ১৩৭তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসের গত ২২ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৪১ জনের বেশি করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। দেশে মৃত্যু বাড়ার সঙ্গে বয়স্কদের মৃত্যুহারও বাড়ছে। গত তিন সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের মৃত্যু ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত ১ জুলাই পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃতদের মধ্যে পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তির সংখ্যা ছিল শতকরা ৭২ দশমিক ০৮ শতাংশ। গতকাল তা বেড়ে ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ তিন সপ্তাহে বেড়েছে ২ দশমিক ২২ শতাংশ। গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৭৫১ জন মৃতের মধ্যে ২ হাজার ৪৪ জনই পঞ্চাশোর্ধ্ব। অন্যদিকে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মৃত্যুহার কিছুটা কমেছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, করোনায় আক্রান্ত ৪১-৫০ বছরের ব্যক্তিদের মৃত্যুহার তিন সপ্তাহে ১৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ থেকে ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশে নেমেছে। ৩১-৪০ বছরের আক্রান্তদের মৃত্যুহার ৭ দশমিক ৬২ থেকে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশে, ২১-৩০ বছরের আক্রান্তদের ৩ দশমিক ৪৯ থেকে ২ দশমিক ৯৮ শতাংশে এবং ১১-২০ বছরের আক্রান্তদের মৃত্যুহার ১ দশমিক ১৬ থেকে ১ দশমিক ০৯ শতাংশে নেমেছে। তবে ০-১০ বছরের শিশুদের মৃত্যুহার সামান্য বেড়েছে। এ পর্যন্ত দেশে করোনায় ১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা শতকরা হিসেবে শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ।

গতকাল নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১১ হাজার ৯৭৬টি। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা হয়েছে ১২ হাজার ৫০টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ২ হাজার ৭৪৪ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ দিন শনাক্তের হার ছিল ২২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৪২ জন এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮০৫ জন।

তিনি জানান, গতকাল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৬০৯টি নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ১৩ হাজার ২৫৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গড় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ৭৫১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ২০২ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

ডা. নাসিমা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৩০ জন ও নারী ১২ জন। সর্বোচ্চ ২১ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৮ জন, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটে ৩ জন করে এবং বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ২ জন করে মারা গেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৭ জন ও বাড়িতে ৫ জন। মৃতদের মধ্যে ১১-২০ বছরের ১ জন, ২১-৩০ বছরের ১ জন, ৩১-৪০ বছরের ৩ জন, ৪১-৫০ বছরের ৩ জন, ৫১-৬০ বছরের ১১ জন এবং ষাটোর্ধ্ব ২৩ জন।

বুলেটিনে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৮২৪ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৭৯৬ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৪২৯ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৯ হাজার ৫৬ জন। হটলাইনগুলোতে এ সময়ে কল এসেছে ৯৭ হাজার ৫১৩টি। টেলিমেডিসিন সেবায় ২৪ ঘণ্টায় কভিড-১৯ বিষয়ক স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন ৪ হাজার ৬৩৬ জন। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ২ হাজার ৩৬৪ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

কভিড হাসপাতালে খালি বেড ও আইসিইউর তথ্য : বুলেটিনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোতে ৭ হাজার ৫৩টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৪ হাজার ৮১৯টি ও ২৮০টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ৯৯টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৬৬২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৩৫৪টি ও ৩৬টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১৫টি। এর বাইরে দেশের অন্যান্য কভিড হাসপাতালে ৭ হাজার ৭৩৩টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫ হাজার ৯২৫টি ও ১৯৮টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১০৩টি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত