১২ বিদেশিসহ ১৩ প্রতারক গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ০৬:৫৪ এএম

ফেইসবুকে ফাঁদ পেতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নাইজেরিয়ার ১২ নাগরিকসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মিরপুর পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নন্দিকা ক্লেনেন্ট চ্যাকেংগু (৩২), ক্লেটাস (৩১), অনিকুলেভ টিমেটি সিনোনগে (৩০), ইকেন ওয়াইজডম (৩০), সিগোজিয়া (৩০), ইভানডে গেব্রিল (৩০), ক্লেসটিন পেট্রিক (৩০), মরডি নেমডি কলনিস (৩০), সামি (৩০), সোমাইনা (৩০), প্রিসিয়াস একেমি (৩০), নওকে ওয়াইজডম (৩০) ও বাংলাদেশি ভুয়া কাস্টমস কর্মকর্তা রাহাত আরা খানম ওরফে ফারজানা মহিউদ্দিন। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ল্যাপটপ, বহু সিমকার্ড ও ১৪টি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন সিআইডির অ্যাডিশনাল ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘদিন অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন গ্রেপ্তার নাইজেরীয়রা। তারা ফেইসবুকে আইডি খুলে বিপরীত লিঙ্গের মানুষকে টার্গেট করে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতেন। পরে বিভিন্ন মূল্যবান উপহারসামগ্রী পাঠানোর কথা বলে পার্সেল ফি বাবদ টাকা নিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তাদের অন্যতম সহযোগী ফারজানা মহিউদ্দিন, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী দাবি করেছেন। বিগত দুই মাসে প্রতারণার মাধ্যমে চক্রের সদস্যরা ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেন, ‘প্রতারণার শিকার এক ব্যক্তির অভিযোগের সূত্র ধরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। চক্রটি অভিনব কৌশলে ফেইসবুকে বন্ধুত্ব গড়ে তাকে “কাথেরিন কুলেন সফিয়া” নামের মেসেঞ্জার আইডি থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টসহ পার্সেল উপহারের প্রস্তাব দেয় এবং এ সংক্রান্ত এয়ারলাইনস বুকিংয়ের তথ্য পাঠায়। এরপর এসব গিফট বক্সে কয়েক মিলিয়ন ডলারের মূল্যবান সামগ্রী রয়েছে জানিয়ে সেগুলো চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কাস্টমস থেকে রিসিভ করতে বলে। চক্রের সহযোগী হিসেবে ফারজানা নিজেকে কাস্টমস কমিশনার পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীকে উপহারসামগ্রী রিসিভের শুল্কবাবদ ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দিতে বলেন। উপহার সংগ্রহ না করলে আইনি জটিলতারও ভয় দেখানো হয়। এরপর তিনি তাদের দেওয়া বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা জমা দেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে শতাধিক ব্যক্তি থেকে দুই মাসে গ্রেপ্তারকৃতরা ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব নাইজেরীয় মার্চেন্ডার পরিচয়ে দীর্ঘদিন বাংলাদেশে অবস্থান করলেও বৈধ কাগজপত্র এবং পাসপোর্ট দেখাতে পারেননি। তাদের বিরুদ্ধে সিআইডি বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য বাড়ির মালিক সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিয়েছেন কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা যেসব অ্যাকাউন্টে টাকা দিয়েছেন, তা খুঁজে বের করা হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কানিজ ফাতেমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসাইন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জিসানুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত