চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত মোট ৪২৪ চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ১২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবহেলায় পিপিই, মাস্কসহ সুরক্ষাসামগ্রীর সংকট এবং নিম্নমানের পণ্য ব্যবহার করায় চিকিৎসকরা সংক্রমিত ও মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২৫ মে চট্টগ্রামে প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান ডা. জাফর হোসেন রুমি। সর্বশেষ গত ১৪ জুলাই মারা যান ডা. সুলতানা লতিফা জামান আইরিন (৩৪)। চট্টগ্রামে মৃত ১২ চিকিৎসকের ১০ জনই বেসরকারি হাসপাতাল ও চেম্বারে রোগী দেখতেন। বিএমএর তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে মোট ৪ হাজার ৩৪৯ চিকিৎসক রয়েছেন। এদের মধ্যে ৪২৪ জন আক্রান্ত হলেও বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৮ জন। জেলায় গত এপ্রিলে মাত্র দুজন চিকিৎসক আক্রান্ত হন। এরপর মে মাসে ৮৬ ও জুনে ১৯৩ জন শনাক্ত হয়। আর চলতি মাসের ২১ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৩ চিকিৎসক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চমেক হাসপাতালের কভিড ব্লকের এক চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা সরকারি চিকিৎসক চাইলেও সব বলতে পারি না। কিন্তু এটি সত্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতির কারণে আমরা সহকর্মীদের হারিয়েছি। ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিলেও আমাদের দেওয়া হয়েছে নিম্নমানের সুরক্ষাসামগ্রী। অধিদপ্তরের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার ধান্দাবাজির বলি হচ্ছি আমরা।’
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. শেখ শফিউল আজম বলেন, ‘এ পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ৯৬৪ চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছে। শুরু থেকেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী পাননি। এদের মধ্যে চিকিৎসকদের দেওয়া হয়েছে নিম্নমানের পিপিই। আবার এসব পরিধানের সঠিক প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়নি স্বাস্থ্যকর্মীদের। ফলে অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীর থেকে চিকিৎসকরা সংক্রমিত হয়েছেন।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘এখনো সরকারিভাবে যেসব পিপিই ও মাস্ক দেওয়া হচ্ছে, তা আসল নাকি নকল তা নিয়ে আমরা যথেষ্ট সন্দিহান।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে চিকিৎসকরা বেশি সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আক্রান্তের হার কমিয়ে আনতে হলে মানসম্মত পিপিই, মাস্ক সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।’ তবে চট্টগ্রাম বিএমএর সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান বলেন, ‘শুরুতে আক্রান্তরা চিকিৎসকদের কাছে তথ্য গোপন করেন। ফলে তারা সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন। তবে এখন আক্রান্তের হার অনেক কমে গেছে।’
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘চিকিৎসককে সরাসরি রোগীর সংস্পর্শে যেতে হয়। এজন্য পিপিই পরিধান ও খোলার ক্ষেত্রে তাদের আরও সচেতন হতে হবে। বেসরকারি হাসপাতালে বেশি চিকিৎসক আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে তাদের আরও সতর্ক হতে হবে।’
