বাড়ি ফিরতে সাইকেলে পাঁচ দেশ পাড়ি

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ০৭:২৮ এএম

স্কটল্যান্ডের এবারডিন শহরে পড়াশোনা করেন গ্রিক যুবক পাপাদিমিত্রিও। লকডাউন শুরু হয়ে গেলে বাড়ি যাওয়ার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত চাইকেলে চড়েই ইউরোপের পাঁচটি দেশ পাড়ি দিয়ে নিজের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছান। সফল সেই অভিযান নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি

এবারডিন থেকে এথেন্স

একটি সাইকেলে চড়ে কয়েকশ মাইল পাড়ি দেওয়ার পরও বাড়ি পৌঁছানোর ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন ক্লেয়ন পাপাদিমিত্রিও। ২০ বছর বয়সী টগবগে এই কলেজ ছাত্রের বাড়ি গ্রিসে। আর পড়াশোনা করছেন স্কটল্যান্ডে। মহামারীর শুরুর দিকে তিনি স্কটল্যান্ডেই ছিলেন। আর তার পরিবারের সদস্যরা ছিলেন গ্রিসে। তাই চেষ্টা করছিলেন বাড়ি ফিরে যাওয়ার। অন্তত তিনটি বিমানের টিকিট বুকিংও করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ফ্লাইটগুলো শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়। শুরু হয়ে যায় দেশে দেশে লকডাউন। বাড়ি ফেরার অন্যান্য প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর স্কটল্যান্ডেই লকডাউনের প্রথম মাসটি পাড়ি দেন। কিন্তু ঘরবন্দি এই এক মাসে বাড়ির জন্য তিনি এতটাই ব্যাকুল হয়ে পড়েন যে, একটি সাইকেল নিয়েই রওনা হয়ে যান।

স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব এবারডিনে পড়াশোনার সুবাদে এবারডিন শহরেই বাস করছিলেন পাপাদিমিত্রিও। এবারডিন শহর থেকে গ্রিসের এথেন্সে তার বাড়ির দূরত্ব প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার। আর এই দূরত্ব অতিক্রম করতে তাকে পাড়ি দিতে হবে ইউরোপে পাঁচটি দেশ! সবচেয়ে বড় ব্যপার হলো করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অবস্থা তখন খুব হযবরল। আর সব দেশই তাদের সীমান্ত বন্ধ করে রেখেছে। এমন বিরুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত আটকাতে পারেনি পাপাদিমিত্রিওকে। এক মহাকাব্যিক যাত্রার মধ্য দিয়ে ৪৮ দিন পর তিনি পা রাখেন নিজের বাড়ির চৌকাঠে।

বাড়ি ফেরার রুদ্ধশ্বাস সেই ভ্রমণের স্মৃতি মনে করে সিএনএনকে পাপাদিমিত্রিও বলেন, ‘এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে কী দারুণ এক অর্জন এই ঘটনাটি। এই যাত্রায় নিজের সম্পর্কে আমি খুঁটিনাটি অনেক কিছু জানতে পেরেছি। আমার সীমাবদ্ধতা, আমার শক্তি আর দুর্বলতার ব্যাপারগুলোও জেনেছি। আশা করছি, আমার এই ভ্রমণের উদাহরণ অন্তত একজনকে হলেও সম্পূর্ণ নতুন কিছু কিংবা বড় কিছু করার জন্য অনুপ্রাণিত করবে।’

পাপাদিমিত্রিও এখন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছেন। আকাশপথে বাড়ি ফেরার জন্য তার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল মার্চ মাসের শেষের দিকে। ওই সময়টিতে ইউরোপজুড়ে মারাত্মকভাবে মহামারীর সংক্রমণ শুরু হয়ে যায়। পাপাদিমিত্রিওর বন্ধুরা ততদিনে যে যার বাড়িতে চলে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ ক্লাসটিতেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। আর তিনি ভাবতেও পারেননি পরিস্থিতি এমন আকার ধারণ করবে। লকডাউন শুরু হয়ে গেলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই তিনি বুঝতে পারেন যে, স্কটল্যান্ডেই অনির্দিষ্টকালের জন্য তাকে কোয়ারেন্টাইন হয়ে থাকতে হবে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায়ই মাথায় আসে সাইকেলে চড়ে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার মহাপরিকল্পনাটি।

ক্যানভর্তি সার্ডিন, সাইকেল আর তাঁবু

কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলোতে সাইকেলে চড়ে কীভাবে বাড়ি পৌঁছানো যায় তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা শুরু করেন পাপাদিমিত্রিও। বেশ কয়েকটি মানচিত্র তিনি জড়ো করেছিলেন। যাত্রাপথে সম্ভাব্য বিপদ-আপদগুলোও খতিয়ে দেখছিলেন। নিজের কোনো সাইকেল না থাকলেও এই বাহনটি চালানোর ক্ষেত্রে কিছুটা আত্মবিশ্বাসীও ছিলেন তিনি। কারণ গত বছর তিনি একটি সাইকেল চালানো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। আর প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই চাকার এই বাহনটি চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এই অভিজ্ঞতাটুকুই ছিল তার সম্বল। ছুটির দিনগুলোতে সাইকেল চালিয়ে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করার একটি পরিকল্পনাও ছিল তার। কিন্তু সময় তাকে এমন জায়গায় নিয়ে এসেছে যে, এই বাহনে চড়েই তাকে পাড়ি দিতে হবে ইউরোপের পাঁচটি দেশ!

পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন পাপাদিমিত্রিও। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনতে শুরু করেন। একটি সাইকেলও কেনেন। তারপর বন্ধুদের এবং বাবা-মাকেও জানিয়ে দেন নিজের দুঃসাহসিক পরিকল্পনার কথা। তারা তাকে নিরুৎসাহিত করেননি এই ভেবে যে, এমন অসম্ভব কাজ থেকে শেষ পর্যন্ত নিজ থেকেই সরে দাঁড়াবেন পাপাদিমিত্রিও। কিন্তু বাবা-মা যখন দেখলেন তাদের সন্তান সত্যি সত্যিই সাইকেলে চড়ে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছে, তখন তারা তাকে একটি শর্ত দেন। শর্ত ছিল, পাপাদিমিত্রিওকে একটি ট্রেকিং অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। এই অ্যাপের সাহায্যে তিনি কখন কোথায় অবস্থান করছেন সে সম্পর্কে জানতে পারবেন বাবা-মা।

১০ মে মহামারীর চূড়ান্ত সময়ে ক্যানভর্তি সার্ডিন মাছ, বাদাম দিয়ে তৈরি এক ধরনের মাখন, একটি স্লিপিং ব্যাগ, একটি তাঁবু, দুই সেট জামা-কাপড় ও খুঁটিনাটি ছোটখাটো অন্যান্য কিছু যন্ত্রপাতি নিয়ে স্কটল্যান্ড থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হন পাপাদিমিত্রিও। সঙ্গে কিছু বই রাখতে চাইলেও স্থান সংকুলানের অভাবে সেই পরিকল্পনা বাদ দিতে হয় তাকে।

প্রতিদিন যত পথ পাড়ি

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাপাদিমিত্রিও জানান, প্রতিদিন গড়ে তিনি সর্বনিম্ন ৫৫ থেকে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিয়েছেন। স্কটল্যান্ড থেকে প্রথমে তিনি ইংল্যান্ড গিয়ে পৌঁছেন। পরে তিনি নেদারল্যান্ডসে গিয়ে উপস্থিত হন। জার্মানির রাইন নদীর তীর ধরে তিনি পাড়ি দিয়েছেন বহু পথ। পাড়ি দিয়েছেন অস্ট্রিয়া, ইতালি। পরে তিনি গ্রিসের পেত্রা নগরীতে গিয়ে পৌঁছেন। সেখান থেকেই নিজের শহর এথেন্সের পথে পা বাড়ান।

যাত্রাপথে নানা অভিজ্ঞতা হয় পাপাদিমিত্রিওর। মহামারীর জন্য ইউরোপের সব দেশেই তখন লকডাউন। রাস্তাঘাটে মানুষ কিংবা যানবাহন নেই বললেই চলে। ক্লান্তি কাটাতে কখনো খোলা মাঠে কিংবা কোনো জঙ্গলের পাশে তাঁবু ফেলে বিশ্রাম নিয়েছেন। প্রতি রাতে তাঁবুর ভেতরে ঘুমিয়ে পড়ার আগে অভিযানের অগ্রগতি ও দু’একটি অভিজ্ঞতার কথা ডায়েরিতে লিখে রাখা ছাড়াও পরদিন তিনি কোন পথে কতদূর অতিক্রম করবেন সে পরিকল্পনাও করতেন। পরিবার আর বন্ধুদের নিজের অবস্থান জানিয়ে ঘুমের দেশে তলিয়ে যেতেন।

শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাবা-মা আর বন্ধুরা ছাড়াও আরও অনেকেই জেনে গিয়েছিলেন পাপাদিমিত্রিওর অভিযানের কথা। তারা প্রতিদিন তার বাবা-মা ও বন্ধুদের কাছ থেকে অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য নিতেন।

যাত্রাপথে বন্ধু, বন্ধুদের বন্ধু এবং পরিচিতজনদের কাছে মাঝে মাঝে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। অভিযান সম্পর্কে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাপাদিমিত্রিও জানান, প্রথম দিনই তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। এমনকি তিনি কান্নাও করেছিলেন। এছাড়া প্রথম দিকে আরও বেশ কিছু সমস্যা তিনি মোকাবিলা করেন। খারাপ আবহাওয়ার পাশাপাশি ভৌগোলিক কারণে খাড়া ঢাল বেয়ে ওপরে ওঠার ক্ষেত্রেও তাকে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিদিন ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার চিন্তা ছিল তার। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় একদিনে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারছেন তিনি।

যাত্রাপথের অভিজ্ঞতা

যাত্রা শুরু হওয়ার ১ সপ্তাহের মধ্যেই স্কটল্যান্ড থেকে উত্তর ইংল্যান্ডের লিডস শহরে পৌঁছেন পাপাদিমিত্রিও। সেখানে তার এক বন্ধু ছিল। বন্ধুর বাড়িতে অবস্থান করে দুই দিন বিশ্রাম নেন। সেখানেই যাত্রা শুরুর এক সপ্তাহ পর প্রথম গোসল করেছিলেন। দুই দিন বিশ্রামের পর আবারও যাত্রা শুরু করা তার কাছে একটা চ্যালেঞ্জের মতো ছিল। তিনি ভাবছিলেন, ‘হায় ঈশ্বর, জীবন নিয়ে আমি এ কোন খেলা খেলছি!’

ব্রিটেন থেকে ফেরির সাহায্যে নেদারল্যান্ডসে পা রাখার পর তার আত্মবিশ্বাস কিছুটা বেড়েছিল। এর মধ্য দিয়ে তিনি তার অভিযানের প্রথম মাইলফলকটি স্পর্শ করেন। নেদারল্যান্ডসে পা রাখার পর তার মনে হলো, পেছনে ফিরে তাকাবার আর সময় নেই। চারদিন পর তিনি জার্মানিতে গিয়ে উপস্থিত হন। সেখানে কয়েকজন মিউচুয়াল ফ্রেন্ড তার দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের ভয়ে কেউই তাকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেননি। অগত্যা, সেইসব বন্ধুদের বাড়ির বাগানে তাঁবু ফেলে বিশ্রাম নিতে হয়েছে। সংক্রমণ বিষয়ে তিনি নিজেও সচেতন ছিলেন। মাঝপথে একবার অসুস্থতা বোধ করায় তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন ক্লান্তির জন্যই এমনটি হয়েছে। ভয়ের কিছু নেই। অভিযানে আরেকটি মাইলফলক তিনি অর্জন করেন যখন জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর স্টুটগার্টে গিয়ে পৌঁছান। এই শহরেই বাস করেন তার দাদী। এ সম্পর্কে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, ‘এটা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। স্টুটগার্ট ছিল আমার কাছে একটি চেকপয়েন্টের মতো, যেখানে  আমার দাদী থাকেন। বহু বছর আমি আমার দাদীকে দেখিনি। আমি যে করেই হোক স্টুটগার্টে পৌঁছাতে উদগ্রীব ছিলাম। মনেপ্রাণে চাইছিলাম দাদীর কাছে পৌঁছানোর আগে যেন অসুস্থ হয়ে না পড়ি।’

দাদীর আদরে স্টুটগার্টেই এক সপ্তাহ কাটিয়ে দেন পাপাদিমিত্রিও। সেখানে পর্যাপ্ত খাবার আর ঘুম তাকে আবারও শক্তিশালী করে তোলে। বলা যায়, দীর্ঘ ভ্রমণের মধ্যে সেখানেই প্রথম তিনি বাড়ির ভেতরে রান্না করা খাবারের স্বাদ নিয়েছিলেন। জার্মানি থেকে তার পরের গন্তব্য ছিল করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ইতালি। তবে, মহামারীর প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে ইতালিয়ানরা ততদিনে লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার পাঁয়তারা করছেন। ইতালির সীমান্তে প্রবেশ করে দেশটির বিখ্যাত পিপারোনি পিৎজা আর বিয়ার সঙ্গে নিয়ে বন্দর নগরী ভেনিসের পথ ধরেছিলেন। ভেনিসে একদিন বিশ্রাম নিয়ে তিনি আড্রিয়াটিক সাগরের তীরবর্তী শহর অঙ্কোনায় গিয়ে হাজির হন। এখান থেকে একটি ফেরির সাহায্যে নিজের দেশ গ্রিসের পেত্রা নগরীতে পৌঁছেন। ফেরিতে ওঠার পরই পাপাদিমিত্রিওর মধ্যে সফল অভিযানের উন্মাদনা শুরু হয়ে যায়। ২৫ জুন অভিযানের ৪৬তম দিনে তিনি গ্রিসের সীমানায় পা রাখেন। সে সময় ছেলেকে স্বাগত জানাতে এথেন্স থেকে পেত্রা নগরীতে এসে অবস্থান করছিলেন পাপাদিমিত্রিওর বাবা-মা। পেত্রায় পৌঁছার পর তার শরীরে করোনাভাইরাস আছে কি-না, তা পরীক্ষা করা হয়। করোনা পরীক্ষার রেজাল্ট নেগেটিভ আসার পর এবার চূড়ান্ত পথ এথেন্সের উদ্দেশে আবারও সাইকেলের প্যাডেলে পা রাখেন। এসময় অন্য দুটি সাইকেলে তার বাবা-মাও তাকে সঙ্গ দেন। অবশেষে স্কটল্যান্ডের এবারডিন থেকে রওনা হওয়ার ৪৮ দিন পর অর্থাৎ ২৭ জুন নিজের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছেন। তাকে স্বাগত জানাতে বন্ধুরা তো বটেই আরও অসংখ্য মানুষ জড়ো হন এদিন। পাপাদিমিত্রিওকে কাছে পেয়ে উৎফুল্ল এসব মানুষ উৎসবে মেতে ওঠেন। আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন পাপাদিমিত্রিও নিজেও। যৌবনে তার বাবা-মাও অভিযানপ্রিয় ছিলেন। সুযোগ্য সন্তান হিসেবেই তাদের পথ অনুসরণ করেছেন পাপাদিমিত্রিও।

এখন কী করছেন পাপাদিমিত্রিও

এই মুহূর্তে এথেন্সের বাইরে গ্রিসের অন্য আরেকটি শহরে আছেন পাপাদিমিত্রিও। সেখানে খ-কালের জন্য গ্রীষ্মকালীন একটি চাকরি শুরু করেছেন তিনি। সাত সপ্তাহ ধরে একটি সফল অভিযানের স্মৃতি এখনো তার চোখেমুখে লেগে আছে।

সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এই অভিযানের মধ্য দিয়ে ব্যক্তি হিসেবে আমার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এখন আমি আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী। নিজের সক্ষমতা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’

পরবর্তী পরিকল্পনা কী? এই প্রশ্নের উত্তরে পাপাদিমিত্রিও বলেন, ‘আরও বড় কিছু করতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার ধারণা, যদি আমি আমার লক্ষ্য অর্জন করতে না পারতাম, তবে কেউ যদি বলত যে, এইটুকু দূরত্ব তিনি সাইকেল চালিয়ে অতিক্রম করতে পারবেন, তাহলে আমার হয়তো বিশ্বাস করতেই কষ্ট হতো।’

বাড়িতে পৌঁছে বেশ কয়েকদিন প্রচুর ঘুমিয়েছেন পাপাদিমিত্রিও। শরীরের ঘাটতি পূরণ করতে সুস্বাদু আর উপাদেয় সব খাবার খেয়েছেন। যাত্রাপথে খাবার হিসেবে সার্ডিন মাছই ছিল তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপকরণ। কিন্তু এখন তার বক্তব্য হলো ‘সে সময় সার্ডিন মাছই ছিল অনেক মজার একটি খাবার। প্রচ- ক্ষুধা নিয়ে খুব তৃপ্তি সহকারে এগুলো খেতাম। কিন্তু এখন এই মাছটির প্রতি আমার এতটাই অনীহা যে, খাওয়া তো দূরের কথা এর চেহারাও দেখতে চাই না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত