বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিয়ে মাত্র ২৫ হাজার টাকা দিয়ে ভোরের বেলা নামে ছোট্ট পরিসরে একটি নার্সারি শুরু করেন তিনি। প্রথমে তিনি কিছু বনজ ও ফলজ চারা দিয়ে তার নার্সারির যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে। এরপর ধীরে ধীরে চলতে থাকে তার এ নার্সারি ব্যবসা।
এখন একজন সফল নার্সারি ব্যবসায়ী পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার ইকরামুল শিকদার।
তিনি রাজনীতির পাশাপাশি নার্সারি পেশাকে আয়ের একমাত্র উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
এক বন্ধুর পরামর্শে এবং টিভিতে নার্সারির উপর কৃষি বিষায়ক অনুষ্ঠান দেখে নার্সারি করার আগ্রহ জন্মে তার। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের চারা ও বীজ সংগ্রহ করে তার এ নার্সারিতে।
মাত্র পাঁচ বছরেই এ নার্সারি ব্যবসায় সফলতার মুখ দেখতে পাওয়ায় এখন তিনি লাখপতি। ইকরামুলের নার্সারি ব্যবসার সফলতা দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এ কাজে।
নার্সারির মালিক ইকরামুল জানান, বর্তমানে তার দেড় বিঘা জমিতে নার্সারি রয়েছে।
এ বছর তিনি দশ কাঠা জায়গায় ১০ হাজার নারকেল চারা, ১০ কাঠা জায়গায় ১৫ হাজার সুপারি চারা এবং বাকি ১০ কাঠা জায়গায় বিভিন্ন বনজ, ফলজ, ঔষধি ও ফুলের চারা রয়েছে।
এর মধ্যে এ বছর তিনি তার নার্সারিতে ৫ হাজার নারকেল ও ১০ হাজার সুপারি চারা বিক্রি করেছেন।
তার এখানে ভিয়েতনাম ও বার্মার নারকেল ও সুপারি চারা রয়েছে। যা মাত্র তিন থেকে সাড়ে ৩ বছরের মধ্যেই ফলন ধরে।
এছাড়া বিভিন্ন জাতের বনজ চারা ছাড়াও দেশি-বিদেশি জাতের আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, বেদানা, কমলা, আমড়া, শরুফা, লেবু, জাম্বুরা, সফেদা, মাল্টা, বড়ই, কামরাঙ্গা, মিষ্টি তেঁতুল, চালতা, লিচু, লকট, বেল, লটকনসহ প্রায় দেড়’শ জাতের চারা রয়েছে।
আমের জাতের মধ্যে হারিভাঙ্গা, ল্যাঙড়া, আমরুপালি,হিম সাগর, গুটি, ফজলি, গৈৗরমতি, কাঠিমন, বারি-৪, বেনানা ম্যাঙ্গোসহ প্রায় ২৫টি জাতের চারা রয়েছে।

ফুলের মধ্যে থাই গোলাপ, রজনিগন্ধা, চায়না টগর, হাছনাহেনা,বকুল,কৃষ্ণচূড়া, বেলি, গন্ধরাজ, জবা, কিসমাস ট্রি, পাতা বহার, ঝাউ গাছসহ প্রায় শতাধিক প্রজাতির চারা রয়েছে।
এছাড়া এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধি গাছও। রাজধানী ঢাকা, বগুড়া, নোয়াখালী, চিটাগাং, রাজশাহী থেকে এসে এখান থেকে চারা কিনে নিয়ে যান বিভিন্ন ব্যক্তি। দূরে অনলাইনের মাধ্যমে তিনি চারা বিক্রি করে থাকেন ।
অপরদিকে তিনি ঢাকায় ছাদ বাগানের জন্য এখান থেকে মাটি বিক্রি করে থাকেন। এ বছর তিনি ঢাকায় ৩টি ছাদ বাগানের জন্য বস্তা প্রতি ২’শ টাকা করে ২০০ বস্তা মাটি বিক্রির অর্ডার পেয়েছেন।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে সুপারি, নারকেল, আম ও মাল্টার চারা বিক্রি হচ্ছে। এ বছর তিনি এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৫ লাখ টাকার বেশি চারা বিক্রি করেছেন। আরও প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার চারা চলতি মৌসুমে বিক্রি হবে বলে তিনি আশাবাদী। তার এখানে ৫ থেকে ৭ জন কর্মচারী নিয়মিত কাজ করে। উপজেলার ঘোষেরহাট বাজারে এবং তার বাড়িতে এ নার্সারি। চারা বেচাকেনার জন্য ঘোষেরহাট বাজারে তার ৪টি প্রদর্শনী কেন্দ্র রয়েছে। এখান থেকে সড়ক ও নৌপথে সহজেই চারা পরিবহনের ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি প্রতিবেদককে জানান, নার্সারি ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় তার এ নার্সারিটি আরও বর্ধিত করার জন্য কাজ চলছে। এ নার্সারিটিকে আরও বৃহৎ আকারে করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি নার্সারি ব্যবসার বাইরেও রাজনীতির পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত রয়েছেন।
নার্সারির নিয়মিত কর্মচারী মিজানুর রহমান এবং হাবিব শিকদার বলেন, এই নার্সারির আমরা নিয়মিত কর্মচারী। এখানে বারো মাস কাজ করে আমাদের সংসার চলে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়রা সিদ্দিকা জানান, নার্সারি একটি লাভজনক ব্যবসা। বেকার যুবকরা নার্সারি করে স্বাবলম্বী হতে পারে।
