একে একে ডিম থেকে বেরিয়ে এলো ২২টি অজগর বাচ্চা

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ১২:৫২ পিএম

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে ডিম থেকে অজগরের ২২টি বাচ্চা ফুটেছে। অপেক্ষায় আছে আরও ৯টি ডিম। এ নিয়ে সেবা ফাউন্ডেশনে পঞ্চম বারের মতো ডিম এবং চতুর্থ বারের মতো বাচ্চা দিল অজগরটি।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব জানান, ২০০৩ সালের দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মীর্জাপুর এলাকায় ছাগল খাওয়ার কারণে গ্রামবাসীর হাতে আটক স্ত্রী অজগরটি উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে রাখা হয়।

এরপর ২০০৪ সালে প্রথম সেটি ৩২টি ডিম দেয় এবং ডিম থেকে বাচ্চা আসে। এরপর ২০০৭ সালে আবারও ২৯টি ডিম দেয় কিন্তু সে বছর ডিম থেকে বাচ্চা ফোটেনি সব ডিম নষ্ট হয়ে যায়।

২০১১ সালে আবারও ৩০টি ডিম দেয় এবং ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে। ২০১৯ সালে ৩১টি ডিম দেয় এবং সেখান থেকে ২২টি বাচ্চা মিলে।

সর্বশেষ চলতি বছরের ২৮ মে ৩১টি ডিম দেয় মা অজগর। সেখান থেকে গত রাত থেকে বাচ্চা ফুটতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত ২২টি বাচ্চা ফুটেছে এবং বাকি ৯টি ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এর আগে সবগুলো বাচ্চাকে বড় হওয়ার পর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এবং সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে। এ বছরও তাই করা হবে।

চলতি বছর সবচেয়ে ভালো বাচ্চা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্য বছর কিছু কিছু ডিম নষ্ট হয় কিন্তু এই বছর মনে হচ্ছে ৩১টি বাচ্চাই পাব। দেখা যাক কি হয়।’

এখানে এই পর্যন্ত পঞ্চমবার ডিম দিয়েছে এবং চারবার সেটি থেকে বাচ্চা এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে পুরুষ সঙ্গী দিতে পারি না তাই নিয়মিত ডিম দিতে পারে না। মাঝে মাঝে যখন কোনো পুরুষ অজগর ধরে আনি তখন সে সময় দেয়, অবমুক্ত করে দিলে আবার সে একা হয় যায়।’

জাবির প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান বলেন, সাপ অন্যপ্রাণী থেকে আলাদা। সাপের বাচ্চা জন্ম নেওয়ার সাথে সাথে সে নিজে নিজে চলতে পারে, খাবার সংগ্রহ করতে পারে। জন্মের পর থেকেই স্বাবলম্বী বলা যায় এবং চাইলে অবমুক্তও করা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত