২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তুম বিন’ ছবির ‘পিয়া’কে মনে আছে? বলিউডে এমন মিষ্টি হাসি, মায়াবী চোখ কয়জনেরই বা আছে। কিন্তু শুরুতে ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়েও অল্পদিনেই তাল কেটে যায় ক্যারিয়ারের।
এই নায়িকার নাম সন্ধ্যালি সিনহা। দিল্লির জেসাস অ্যান্ড মেরি কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক করার পর কিশোর নমিত কাপুরের অ্যাক্টিং স্কুলে অভিনয় শিখতে যান। অথচ ছোটবেলা থেকে চাইতেন ডাক্তার হতে। কিন্তু কলেজে পড়তে গিয়ে জীবনের মোড় আচমকা ঘুরে যায়।
কলেজেই র্যাম্পে হাঁটার সুযোগ হয়েছিল সন্ধ্যালির। মনে হতে থাকে, মডেলিংকে পেশা করলে কেমন হয়? তখন সোনু নিগম ‘দিওয়ানা’ নামের বিখ্যাত মিউজিক ভিডিওটি বানাচ্ছিলেন। অফার যায় সন্ধ্যালির কাছে। ভিডিওটির পরিচালনা করেন অনুভব সিনহা।
সন্ধ্যালিকে এই পরিচালকের এতই মনে ধরে যে ‘তুম বিন’ সিনেমায় কাস্ট করেন। ২০০১ সালে যা বছরের অন্যতম হিট হয়েছিল। সেই ছবির গান আজও মুখে মুখে ফেরে। সন্ধ্যালির নিষ্পাপ মুখের প্রেমে পড়েছিলেন দর্শক।
পরের ছবি ‘পিঞ্জর’ একটু আলাদা ধাঁচের। সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন ঊর্মিলা মাতন্ডেকর, মনোজ বাজপেয়ী, সঞ্জয় সুরীর মতো অভিনেতারা। ছিল গুলজারের গান। ২০০৩ সালের এ ছবিতে মুসলিম তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেন সন্ধ্যালি। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিকায়, হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্বই ছিল স্টোরিলাইন। বক্স অফিসে সুপারহিট না হলেও এই ছবির ভাগ্যে জুটেছিল জাতীয় পুরস্কার। প্রত্যেকের অভিনয়ই প্রশংসিত হয়।
কিন্তু সুপারহিট ছবি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিতে অভিনয় করার পরেও সন্ধ্যালি পায়ের তলায় পাকাপোক্ত জমি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। যা যা অফার পাচ্ছিলেন সব পার্শ্ব চরিত্র। আসলে বলিউডে বহিরাগত হওয়ার মূল্য মাঝে মাঝে এভাবেই দিতেই হয়। ছিল না কোনো গডফাদারও। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সন্ধ্যালি পা রাখেন দক্ষিণী ছবিতে। তিন-চারটা তামিল-তেলুগু ছবিতে অভিনয় করার পর শোবিজকে বিদায় জানান।
২০০৫ সালে ব্যবসায়ী কিরণ সালাস্কারকে বিয়ে করেন সন্ধ্যালি। বর্তমানে তিন সন্তান, স্বামী নিয়ে সুখের সংসার তার। ও হ্যাঁ, ২০১৬ সালে ‘তুম বিন’-এর রিমেকে ক্যামিও হিসেবে হাজির হন। সেই ছবি বক্স অফিসে খুব একটা চলেনি। আর এ নিয়ে সন্ধ্যালির কোনো দোষ ধরাও চলে না।
