চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত আসছে আগামী সপ্তাহে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে নির্বাচন কমিশন ‘চসিক নির্বাচন’-এর ভোটগ্রহণ করতে না পারায় সংস্থাটিতে প্রশাসক নিয়োগ করতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তবে প্রশাসক হিসেবে বর্তমান সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নাকি অন্য কেউ অন্তর্বর্তীকালীন নিয়োগ পাচ্ছেন সেটা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জন।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে প্রশাসকই নিয়োগ করা হবে। ৫ আগস্ট পর্যন্ত চসিকের বর্তমান পর্ষদের মেয়াদ রয়েছে। এর আগেই প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।’ এ ক্ষেত্রে প্রশাসক হিসেবে কে আসতে পারেন এ প্রশ্নের উত্তরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘এটা সরকারি সিদ্ধান্ত। আমরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। আশা করি আগামী সপ্তাহের মধ্যে জানতে পারবেন।’
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার অ্যাক্ট অনুযায়ী, চসিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। প্রশাসক পদে কে আসবেন, সেটা নির্ভর করছে সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি যেভাবেই নির্দেশনা দেবেন, সেভাবেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’
সচিব আরও বলেন, ‘গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। এখনো যেহেতু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রয়েছে, তাই নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই স্থানীয় সরকার অ্যাক্ট অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
চসিকের নতুন প্রশাসক নিয়োগ প্রসঙ্গে শিক্ষা উপমন্ত্রী ও চসিকের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘চসিকের প্রশাসক নিয়োগ হবে নাকি হবে না, সেটা সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়। আমি এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ নই। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। সরকারি যেটা সিদ্ধান্ত, সেটাই হবে।’
প্রশাসক নিয়োগ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রাম। তাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চসিকের প্রশাসক পদে যোগ্য ব্যক্তির প্রয়োজন। যিনি সিটি করপোরেশন ও ৬০ লক্ষাধিক নগরবাসীর উপকারে আসবেন।’
এ প্রসঙ্গে বর্তমান সিটি মেয়র নাছির উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীই আমাকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বানিয়েছেন। এখন প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই শিরোধার্য। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে নগরবাসীর উন্নয়নে অতীতে ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।’
এর আগে গত ১৪ জুলাই নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলতি বছর ২৯ মার্চ নির্ধারিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ২১ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্থগিত করা হয়েছিল। বর্তমানেও করোনার প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং অতিবৃষ্টি ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা বিবেচনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদকালের মধ্যে অর্থাৎ এ বছরের ৫ আগস্টের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না।’
পরে একই দিন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনের এ চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ বা প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।
