সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ অবসরে যাচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তার শেষ কর্মদিবসে তাকে অবসরোত্তর বিদায়ী সংবর্ধনা দেয় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। করোনা পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ ৬৭ বছর বয়সে অবসরে যান। আগামী ৭ আগস্ট বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহের ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হচ্ছে। তবে আজ শুক্রবার থেকে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শুরু হচ্ছে যা শেষ হবে আগামী ৮ আগস্ট। এ কারণে গতকালই ছিল বিদায়ী এই বিচারপতির শেষ কর্মদিবস।
বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ হাইকোর্টে দায়িত্ব পালনকালে নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলা, জাসদ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মোমিন হত্যা মামলা, লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্রী স্মৃতি নাথ সীমাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলা এবং নরসিংদীর সিক্স মার্ডারের মতো আলোচিত মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় দিয়েছিলেন।
গতকাল বিদায়ী সংবর্ধনায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহের কর্মময় জীবনের ওপর বক্তব্য তুলে ধরেন। এ সময় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ, ড. মো. বশির উল্লাহ, প্রতিকার চাকমা, এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক, অমিত দাসগুপ্ত ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন।
১৯৫৩ সালের ৮ আগস্ট সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন ভবানী প্রসাদ সিংহ। ইংরেজিতে এমএ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭৯ সালের ১ মার্চ জেলা বারে আইনজীবী হিসেবে তালিকভুক্ত হন। পরে ১৯৮৩ সলের ২০ এপ্রিল মুন্সেফ হিসেবে (সহকারী জজ) বিচার বিভাগে যোগদান করেন। ২০০০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
