ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানার পর ইউএনও-এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২০, ০৫:০৩ পিএম

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের চাকাই গ্রামের আব্দুল হাকিম ভেপু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করেন। এর ফলে পুকুরের উপরিভাগের কৃষি জমি, বসতবাড়ী ও কবরস্থান ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় ওই এলাকার কৃষি জমির মালিক মো. খাইরুল ইসলাম, বসতবাড়ির মালিক সহিদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবর অভিযোগ করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন এসিল্যান্ড ডালিম সরকারকে বিষয়টি দেখতে বলেন। 

ডালিম সরকার ১১ জুন সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর খনন করার ফলে পার্শ্ববর্তী কৃষি জমি, বসতবাড়ি ও কবরস্থানের ক্ষতি পর্যালোচনা করে স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল হোসেনের উপস্থিতিতে পুকুরের মালিক আব্দুল হাকিমকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এরপরও আব্দুল হাকিম পুকুরের ভাঙা অংশ মেরামত না করায় বৃষ্টির পানিতে তা আরো ভেঙে যেতে থাকে। অভিযোগকারীরা পুনরায়  ডালিম সরকারকে অভিযোগ করেন। 

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৮ জুলাই এসিল্যান্ড আবারো সেখানে যান। এ ঘটনায় পুনরায় আইন অমান্য করার দায়ে বীরগঞ্জের ইউএনও, এসিল্যান্ড, চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পুকুরের মালিক আব্দুল হাকিমকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 

সেই সঙ্গে আব্দুল হাকিম অঙ্গীকারনামায় লিখিতভাবে জানান, পুকুর পাড়ে আরসিসি পিলার দিয়ে ৩ দিনের মধ্যে গাইড ওয়াল নির্মাণ করে দেবেন যাতে বসতবাড়ি ও কবরস্থান ধসে না পড়ে। 

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২১ জুলাই বীরগঞ্জের ইউএনও-এসিল্যন্ডসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ ভ্রাম্যমাণ আদালত ও  অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের দায়ে দিনাজপুর জজকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন আব্দুল হাকিম।  

বিষয়টি নিয়ে ২২ জুলাই আব্দুল হাকিম একটি হাতে লেখা সংবাদ সম্মেলনের কপি বীরগঞ্জের তথাকথিত দুজন সাংবাদিককে দেন। ওই তথাকথিত দুই সাংবাদিক বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করেন। 

হাতে লেখা সেই সংবাদ সম্মেলনের কপিতে পুকুরের মালিক আব্দুল হাকিম অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ১১ জুন আমার ছেলেকে তার অফিসে নিয়ে গিয়ে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ৫ হাজার টাকার রশিদ প্রদান করেন। একইভাবে গত ১৮ তারিখে ৫ লাখ টাকা নিয়ে ৫০ হাজার টাকার রশিদ দেন। 

এ বিষয়ে আব্দুল হাকিমের বাড়ি গিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাড়িতেই এসিল্যান্ড ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। আমি আমার ভাইয়ের কাছ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার এবং আরেক ভাইয়ের কাছ থেকে ১ লাখ এবং আমার জমানো টাকা দিয়ে ৫ লাখ টাকা দিয়েছি। 

তবে তার বড় ভাই কাইয়ুম টাকার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে প্রথমে জানান। আব্দুল হাকিমের স্ত্রীও প্রথম দিকে টাকার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান। 

এ বিষয়ে সুজালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মহেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘আব্দুল হাকিম একজন জমির দালাল। যেদিন উপজেলায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় সেদিন আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। এর আগেও তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল, এ জন্য পরে আমি নিজেই দরখাস্ত দিয়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানার ব্যবস্থা করেছি। এখন হাকিম যেগুলো বলছে সেগুলো সবই মিথ্যা কথা। তাকে এগুলো কেউ করাচ্ছেন বলেও চেয়ারম্যান জানান।

বীরগঞ্জের এসিল্যান্ড ডালিম সরকার বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় মাত্র কয়েকদিন হলো এসেছি। আমার বিরুদ্ধে যে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ আব্দুল হাকিম করেছেন এটা মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। কারণ, যেদিন তাকে ৫০ হাজার টাকা ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছিল সেদিন স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আর আমরা হাকিম সাহেবের বাড়ির ভেতরও কেউ প্রবেশ করিনি। আমরা সবাই বাড়ির বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। হাকিম সাহেব কেন এসব অভিযোগ করছেন বিষয়টা বলা মুশকিল।’

জানতে চাইলে বীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন বলেন, ‘আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। তিনি বর্তমানে দুজন ভূঁইফোড় সাংবাদিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এসব করে বেড়াচ্ছেন। আমরা প্রশাসনিকভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত