দ্বিতীয় অধ্যায়
বিশ্বসভ্যতা (মিসর, সিন্ধু, গ্রিক ও রোম)
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও জুয়েল প্রাচীন বিশ্বসভ্যতা সম্পর্কিত ম্যাগাজিন পড়তে গিয়ে তালতলা অঞ্চলের জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়। আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে তালতলা শুধু কৃষিতেই উন্নত ছিল না, তালতলাবাসী বর্ণমালা আবিষ্কার করে এবং লেখার জন্য বিশেষ গাছ থেকে কাগজ তৈরি করে। ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রেও তারা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
ক. গণতন্ত্রের সূচনা হয় কোথায়?
খ. নবোপলীয় যুগ বলতে কী বোঝো?
গ. জুয়েলের ম্যাগাজিনে পড়া তালতলা অঞ্চলের সভ্যতার সঙ্গে প্রাচীন কোন সভ্যতার মিল পাওয়া যায় ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাচীন সভ্যতা ‘ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছিল।’ উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
ক. গণতন্ত্রের সূচনা হয় প্রাচীন গ্রিসের এথেন্সে।
খ. আদিম যুগের মানুষ পাথর ভেঙে ঘষে ঘষে ধারালো অস্ত্র তৈরি করতে শেখে। সে সময়ে পাথরই ছিল তাদের একমাত্র হাতিয়ার। সে কারণে যুগটিকে বলা হয় পাথরের যুগ। পাথরে যুগের প্রথম পর্যায়কে বলা হতো পুরনো পাথরের যুগ। পুরনো পাথরের যুগ যখন শেষ হয়, তখন মানুষের যাযাবর জীবনের অবসান ঘটে। এরপর মানুষ
কৃষিভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করে। এ
যুগকে বলা হয় নতুন পাথরের যুগ বা নবোপলীয় যুগ।
গ. জুয়েলের ম্যাগাজিনে পড়া তালতলা অঞ্চলের সভ্যতার সঙ্গে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। মিসরীয়রা কৃষিক্ষেত্রে বেশ এগিয়েছিল। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য, লিলেন কাপড় ও মাটির পাত্র ক্রিট দ্বীপ, ফিনিশিয়া, ফিলিস্তিন ও সিরিয়ায় রপ্তানি হতো। মিসরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার। নগরসভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিসরীয় লেখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে। পাঁচ হাজার বছর আগে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি বর্ণমালা আবিষ্কার করে। মিসরীয়রা নলখাগড়া-জাতীয় গাছের খণ্ড থেকে কাগজ বানাতে শেখে। গ্রিকরা সেই কাগজের নাম দেয় ‘প্যাপিরাস’। আবার ব্যাপকতা, বৈচিত্র্য ও ধর্মীয় ভাবধারায় প্রভাবিত বিশাল আকারের পাথরের মূর্তিগুলো ভাস্কর্যশিল্পে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য হচ্ছে গির্জার অতুলনীয় স্ফিংকস। মিসরের সবচেয়ে বড় পিরামিড হচ্ছে ফারাও খুফুর পিরামিড।
ওপরের আলোচনা থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়, মিসরীয় সভ্যতার সঙ্গে জুয়েলের ম্যাগাজিনে পড়া তালতলা অঞ্চলের সভ্যতার সঙ্গে পুরোপুরি মিল রয়েছে।
ঘ. ভাস্কর্য ও স্থাপত্য প্রাচীন সভ্যতার চিহ্ন বহন করে। প্রাচীন সভ্যতার ভাস্কর্য ও স্থাপত্য অতীতকে পরিচয় করিয়ে দেয় বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে। উদ্দীপকে মিসরীয় সভ্যতার বর্ণনা করা হয়েছে। এই সভ্যতাটি ‘ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছিল।’
মিসরীয়দের বলা হয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। পাথর কেটে প্রকাণ্ড সৌধ বানাতে তারা ছিল খুবই দক্ষ। প্রাচীন মিসরের বেশির ভাগ সৌধ দাঁড়িয়ে আছে কায়রো শহরের কাছাকাছি মরুভূমি অঞ্চলে। জ্যামিতির ত্রিভুজের মতো দেখতে প্রকাণ্ড এসব সৌধই হচ্ছে মিসরের বিখ্যাত পিরামিড। মিসরের সবচেয়ে বড় পিরামিড হচ্ছে ফারাও খুফুর পিরামিড। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে তারা দেহকে তাজা রাখার জন্য মমি করে রাখত এবং মমিকে রক্ষা করার জন্য তারা পিরামিড তৈরি করেছিল। মিসরীয় সভ্যতার মধ্য ও শেষভাগে তৈরি হয়েছে ধর্মমন্দির। এগুলোর মধ্যে কর্নাক এবং লাকজোরের মন্দির বিখ্যাত। ভাস্কর্যশিল্পে মিসরীয়দের মতো প্রতিভার ছাপ আর কেউ রাখতে সক্ষম হয়নি। আবার ব্যাপকতা, বৈচিত্র্য ও ধর্মীয় ভাবধারায় প্রভাবিত বিশাল আকারের পাথরের মূর্তিগুলো ভাস্কর্যশিল্পে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। ভাস্কর্যের অধিকাংশ নিদর্শন দেখা যায় সমাধি, সৌধ ও মন্দিরের সমাধি পথে। মন্দিরের ভেতরে খোদাই করে মূর্তি তৈরি করত। প্রতিটি ভাস্কর্য ধর্মীয় ভাবধারা, আচার-অনুষ্ঠান ও মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিল। তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য হচ্ছে গির্জার অতুলনীয় স্ফিংকস। মন্দিরগুলোতে মিসরীয় ভাস্কর্য স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন প্রতিফলিত হয়েছে।
