জরিমানায়ও দমেননি শারমিন

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২০, ০৬:৩৮ এএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নকল ও ত্রুটিপূর্ণ ‘এন-৯৫’ মাস্ক সরবরাহের দায়ে গ্রেপ্তার শারমিন জাহানের প্রতিষ্ঠান ‘অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল’কে এর আগেও জরিমানা করেছিল ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ৩ জুলাই শাহবাগ থানাধীন আনন্দবাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের একটি গুদামে ভেজাল হেক্সিসলসহ নকল সুরক্ষাসামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করে এবং দণ্ডবিধি ২৬৯ ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জানা গেছে, করোনায় বন্ধ হওয়া একটি হোটেলকে গুদাম বানিয়ে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের এন-৯৫ লেখা মাস্কসহ সুরক্ষাসামগ্রী বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল। এ সময় অভিযান পরিচালনাকারীদের সঙ্গে ক্ষমতার দম্ভও দেখিয়ে ছিলেন শারমিনের স্বামী পরিচয় দেওয়া শরিফুল আলম। মুঠোফোনের লাউডস্পিকারে শারমিন বলেন, দেখে নেবেন। সরকার ও প্রশাসনের উচ্চমহলে তাৎক্ষণিক কথাও বলেন তারা। কিন্তু তবুও জরিমানা থেকে মাফ পাননি। পরে ছাত্রলীগ নেতাদের দিয়ে অভিযান পরিচালনাকারীদের কাছে ফোনও দেওয়ানো হয়। অভিযান সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করে এক কর্মকর্তা বলেন, ছাত্রলীগের এক নেতা ফোন করে জানতে চান কেন জরিমানা করা হলো। আমি সব বিষয় বলার পর তিনি বলেন, ‘আমাদের ভুল তথ্য দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ওই সময় গুদামে থাকা মো. শরিফুল আলম নিজেকে শারমিন জাহানের স্বামী পরিচয় দিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। ফোনের লাউডস্পিকারে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন শারমিন। নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগের নেত্রী দাবি করে নানা হুমকিও দেন। বলেন, ‘জরিমানা করা হলে আমরাও ব্যবস্থা নিতে পরব।’

নাম প্রকাশ না করে ঢাকা জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযানের সময় বিভিন্ন মহল থেকে তদবির আসতে থাকে। কিন্তু অভিযান সঠিকভাবেই পরিচালনা করা হয়। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহনাজ হোসেন ফারিবা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৩ জুলাই রাজধানীর আনন্দবাজার বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অমর একুশে হলসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সে সময় দেখা যায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে সন্ধ্যা ৭টার পরও ‘অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গুদাম খোলা রয়েছে। সেখানে অনেকে মিলে সামাজিক দূরত্ব না মেনে আড্ডা দিচ্ছিলেন। করোনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি হোটেলকে গুদাম বানিয়ে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এন-৯৫ লেখা মাস্ক বিক্রির জন্য রাখা। পিপিই ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারও রয়েছে সেখানে। তবে দেখা যায় হ্যান্ড স্যানিটাইজারগুলো নকল। পরে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী শারমিন জাহানের অনুপস্থিতিতে তার স্বামী পরিচয়দানকারী মো. শরিফুল আলমের কাছে করোনা সুরক্ষাসামগ্রীর বিষয়ে কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়। সে সময় তারা নানা টালবাহানা করতে থাকেন। বিএসএমএমইউ ওয়ার্ক অর্ডার দেখিয়ে দাবি করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির কোনো ত্রুটি নেই। তবে শেষ পর্যন্ত তারা যৌক্তিক কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ধ্বংস করা হয় নকল সুরক্ষা সরঞ্জাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত