মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশেই চাষাবাদের উপযোগী পরিবেশ অনুপস্থিত। উচ্চ তাপমাত্রা ও তীব্র পানি সংকটই এর জন্য দায়ী। এদিক থেকে মরুর দেশ আরব আমিরাতের অবস্থা তলানির দিকে। চাষাবাদের জন্য একেবারেই অনুপযোগী বলে মনে করা হয় দেশটিকে। যার দরুন ৮০ শতাংশ খাদ্যপণ্যই আমদানি করতে হয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও চলমান করোনা মহামারীর ফলে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে আসে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আধুনিক সব প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের স্বপ্ন দেখছে আরব আমিরাত।
চাষাবাদ করে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৮ সালে বেশ কয়েকটি পাইলট পরিকল্পনাও হাতে নেয় আরব আমিরাত। তাছাড়া কৃষিপ্রযুক্তিতে কোটি কোটি টাকাও বিনিয়োগ করছে দেশটির সরকার। ভার্টিক্যাল ফার্মিং প্রযুক্তি এর মধ্যে অন্যতম। এ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে চাষাবাদে ইতিমধ্যে সাফল্যের মুখ দেখছেন অনেক উদ্যোক্তা। পিওর হারভেস্ট স্মার্ট ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা স্কাই কুরৎস বলেন, ‘আমি যখন মরভূমিতে টমেটো চাষের কথা বললাম, সবাই আমাকে পাগল ভেবেছিল। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি।’
এরোফার্ম নামে ভার্টিক্যাল ফার্মের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক ওশিমা জানান, জমিতে যে ফসলের পাতা ছাড়তে ৩০ থেকে ৪০ দিন লাগে, এই পদ্ধতিতে সেটা ১০-১২ দিনেই করা সম্ভব। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে রাজধানীর সবচেয়ে বড় ভার্টিক্যাল ফার্মটিতে বিভিন্ন প্রজাতির ৮০০ ফসল ফলানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবুধাবি বিনিয়োগ কার্যালয় থেকে ইতিমধ্যে বড় আকারের অনুদানও পেয়েছে এরোফার্ম।
নতুন উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তিতে গ্রিনহাউজের মধ্যে কয়েক ধাপে একটার ওপর আরেকটা গাছের স্তর চাষ করা হয়। এলইডি আলোর সাহায্যে তাপমাত্রা ও আলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যাতে বাড়তি জল খরচ না হয়, সেজন্য ফোঁটায় ফোঁটায় জল দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। তাছাড়া বাড়তি জল ওপরের স্তর থেকে নিচের গাছে যাওয়ায় অপচয় একেবারেই হয় না। এর ফলে তীব্র গরম বা কনকনে শীত, সারা বছরই চাষ করা সম্ভব হয়।
