অ্যালার্জি হওয়া না হওয়া সাধারণত আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত পরিবেশের নানা উপাদানের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে। এটা খুবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। শরীরের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বলা হয় অ্যালার্জেন। এই অ্যালার্জেন যদি কখনো সংক্রমিত হয়, তাহলে নানা ধরনের অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন ত্বকের লাল রং ধারণ, চামড়ায় লাল চাকা চাকা হয়ে যাওয়া বা শরীরের কোনো অঙ্গ ফুলে ওঠা। সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রেÑ বমি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা অ্যানফিল্যাকটিক শক দেখা দিতে পারে।
অ্যালার্জির কয়েকটি ধরন
ত্বকের যে জায়গায় ফুসকুড়ি হবে, সেই জায়গাটুকু জ্বলবে, লাল হয়ে যাবে অথবা ব্যথা করবে বা চুলকাবে।
চামড়া ফুলে গিয়ে চুলকানি বা রক্তপাত হতে পারে।
প্রতিবার অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসার পর ত্বক লাল হয়ে চুলকানি বেড়ে যায়।
গলায় খুসখুসে কাশি বা চুলকানি হতে পারে।
ত্বকের বিভিন্ন জায়গায় দানাদার লাল ফুসকুড়ির মতো ওঠে। প্রচুর চুলকাতে পারে।
চোখে পানি জমতে পারে অথবা চুলকাতে পারে। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় চোখ লাল হয়ে যায়।
ত্বকে প্রায় সময়ই অস্বস্তি থাকে।
অস্বস্তিভাবের সঙ্গে ত্বক সব সময় জ্বলতে থাকে।
কারণ
অ্যালার্জির কোনো নির্দিষ্ট কারণ এখনো বের করা যায়নি। বংশগত কারণে অ্যালার্জি হতে পারে। অবশ্য পরিবারের কারও নির্দিষ্ট কোনো জিনিসে অ্যালার্জি থাকলে সন্তানও তাতে আক্রান্ত হবে এমনটি নিশ্চিত নয়।
যা থেকে অ্যালার্জি হয়
প্রাণী
এই তালিকায় প্রাণী থেকেও সরাসরি অনেকের অ্যালার্জি হতে পারে। এ ছাড়া তেলাপোকা, প্রাণীদের শরীরের লোম, তাদের থেকে সৃষ্ট ময়লাতেও অ্যালার্জির সম্ভাবনা থাকে।
ওষুধ
পেনিসিলিন এবং সালফা-জাতীয় ওষুধে অ্যালার্জির সম্ভাবনা অনেক বেশি।
খাবার
গম, বাদাম, দুধ, মাছ, ডিমে অ্যালার্জি অনেক পরিচিত। অনেকেরই এসব খাবারে অ্যালার্জি দেখা দেয়।
পোকামাকড়
মৌমাছি, বোলতা, মশা ইত্যাদির কামড়েও অনেকের অ্যালার্জি হতে পারে।
গাছ
ঘাস, আগাছা বা গাছ থেকে আসা রেণু বা ধুলো থেকে অনেকের অ্যালার্জির সংক্রমণ হতে পারে।
খড়
বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় গাছ থেকে খড় হয়। সেই খড়ে অনেকের অ্যালার্জি হতে পারে। এই অ্যালার্জিতে চোখে চুলকানি, পানি জমা, নাক দিয়ে পানি পড়া বা কাশির মতো সমস্যা হতে পারে।
অ্যালার্জি হলে নিজ থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তথ্যসূত্র : হেলথলাইন ডটকম
