তিনি সিঙ্গাপুরের তিন বারের ‘বর্ষসেরা’ অভিনেতা। ২০ বছর ধরে অভিনয় করে এখন অবসরে। অভিনয়টা যে ভোলেননি, সেটা বোঝা গেল আদালতের শুনানিতে। দেড় বছর আগে জাহিদুল নামের এক বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের মাথা ফাটানোর ঘটনায় বিচারকের সামনে সোমবার রীতিমতো অভিনয় জুড়ে দেন!
সিঙ্গাপুরের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক স্ট্রেইট টাইমস জানিয়েছে, ৫৯ বছর বয়সী হুয়াং ইলিয়ান আদালতে দাবি করেছেন ‘বাবার অধিকার নিয়ে’ তিনি জাহিদুলকে আঘাত করেন! আর সেই অধিকার জাহিদুলই নাকি তাকে দিয়েছিলেন!
এসব বলেও অবশ্য পার পাননি ‘চতুর’ ইলিয়ান। আদালত তাকে অভিযুক্ত করেছেন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর ইসলামিক হাবে (এসআইএইচ) ইলিয়ানের প্রোডাকশন হাউজের ইভেন্টে কাজ করছিলেন জাহিদুল। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাকে মারতে থাকেন এই অভিনেতা। কাঠের হাতলওয়ালা চাঁছনি জাতীয় ধাতব পদার্থ দিয়ে দুইবার তিনি মাথায় আঘাত করেন।
ওই ঘটনায় জাহিদুল গুরুতর আহত হন। তার খুলিতে পর্যন্ত আঘাত লাগে।
কর্মজীবী হোস্টেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকায় জাহিদুল সোমবারের (২৭ জুলাই) শুনানিতে উপস্থিত হতে পারেননি।
ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর চং কে এন চার প্রত্যক্ষদর্শীকেও আদালতে ডাকেন। এদিন তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন: মোহাম্মদ আখতার আব্দুল খলিল, এসআইএইচের নিরাপত্তারক্ষী ব্রাডেল রোড, দুই পুলিশ সদস্য সার্জেন্ট ওয়েসলি থিও এবং লিম রং হো।
খলিল আদালতকে জানান, অভিযুক্ত ইলিয়ান সেদিন জাহিদুলকে মারার সময় গালাগাল দেন। জাহিদুল কাজ পারে না, এমন অভিযোগ করতে থাকেন তিনি।
সার্জেন্ট ওয়েসলি জানান, অসহায় প্রবাসী শ্রমিক জাহিদুলকে সেদিন কাঁদতে দেখেছিলেন তিনি। ইলিয়ানের ভয়ে একদম মুষড়ে পড়েন জাহিদ।
ইলিয়ান গালাগাল দেয়ার কথা অস্বীকার করে আদালতে দাবি করেন, ‘জাহিদুল সেদিন একটু বেশি অভিনয় করেছিল! সে আমাকে ভালো বস, ভালো শিক্ষক বলতো। আমাকে বাবার মতো সম্মান করতো।’
‘‘জাহিদুল আমাকে মারার অধিকার দিয়েছিল। ও আমাকে বলেছিল, ‘আমি কাজ ধীরে করি, তাই মারতে পারেন!’’’
ইলিয়ান সিঙ্গাপুরে ২০০২, ২০০৩ এবং ২০০৬ সালে বার্ষিক স্টার অ্যাওয়ার্ডস পুরস্কার জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালে তিনি নিজে ‘মিডিয়াক্রপ’ নামে একটি প্রোডাকশন হাউজ খোলেন।
এই ধরনের অপরাধে সিঙ্গাপুরে বেত্রাঘাতের পাশাপাশি অভিযুক্তকে সাত বছরের জন্য জেলে পাঠানোর বিধান আছে।
ইলিয়ানের বয়স ৫০ বছরের বেশি বলে বেত্রাঘাতের শাস্তি পাবেন না।
