আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ, হিমালয়, আসাম ও মেঘালয়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রধান নদনদীর পানি সমতল ফের বৃদ্ধি পেতে পারে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ এবং ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তরের গাণিতিক আবহাওয়া মডেল অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এসব তথ্য দিয়েছে। এতে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টা ঢাকা জেলার আশপাশের নদীগুলোর ও গঙ্গা নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। আর পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান প্রধান নদনদীর পানি হ্রাস পেতে পারে।
সবমিলে দেশের ১৭টি জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ঢাকা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। আর পর্যবেক্ষণে থাকা নদনদীর ১০১টি স্টেশনের মধ্যে গতকাল পানি বেড়েছে ৩৭টির। এর মধ্যে ২০টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে রয়েছে।
কুড়িগ্রামে হাতে কাজ নেই, খাদ্য সংকট : কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি সামান্য কমেছে। তবে রবিবার মধ্যরাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সবচেয়ে বিপদে পড়েছে দিনমজুররা। তাদের হাতে কাজ নেই, ঘরেও খাবার নেই। বন্যায় ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে আছে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ শতাধিক চরাঞ্চলের আড়াই লক্ষাধিক মানুষ।
জামালপুরে পানির তোড়ে ভাঙল সংযোগ সড়ক : জামালপুরে গতকাল সকাল থেকে ভারী বর্ষণে আবারও বেড়েছে যমুনার পানি। বিকেলে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
এদিকে রবিবার রাত ১১টার দিকে পানির তোড়ে সরিষাবাড়ীর সাতপোয়া ইউনিয়নের বাঘমারা-শিশুয়া ব্রিজের সংযোগ সড়কের ৩০ ফুট ভেঙে যায়। এতে সরিষাবাড়ীর আরামনগর বাজার থেকে মাদারগঞ্জের কয়ড়া বাজারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দুর্ভোগে পড়েন ৩০ গ্রামের মানুষ।
ফরিদপুর শহররক্ষা বাঁধে ভাঙন : ফরিদপুরে বন্যা পরিস্থিতির ফের অবনতি হয়েছে। গতকাল বিকেলে গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
ফরিদপুর সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান জানান, আলিয়াবাদ ইউনিয়নের সাদীপুরের বিল গজারিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহররক্ষা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৪৫ মিটার অংশ ভেঙে গেছে। গত ১৯ জুলাই একই বাঁধের ৮০ মিটার ভেঙে গেলে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়।
মির্জাপুরে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বন্যার্তরা : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে বেড়াচ্ছে উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার বন্যার্ত পরিবার।
গাইবান্ধায় বাঁধ ভেঙে প্লাবন : গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি কমতে থাকলেও গোবিন্দগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ২০টি গ্রামে পানি ঢুকেছে।
মাদারীপুরে পানিবন্দি ৩৫ হাজার পরিবার : বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গতকাল মাদারীপুরের চারটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ৩৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। গতকাল মাওয়া পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ৭১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বেড়েছে শিবচরের পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর পানি।
