পরিকল্পনা বিভাগের অধীনে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় থোক বরাদ্দ রয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। এই টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে থোক বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষমতা ছিল পরিকল্পনামন্ত্রীর। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় এই অর্থ পরামর্শ ব্যতিরেকে ব্যয় না করার নির্দেশ দিয়ে একটি নির্দেশনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। ওই নির্দেশনায় এর কোনো কারণ উল্লেখ না করায় সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, করোনার কারণে সরকারের কৃচ্ছ্র সাধন নীতির অংশ হিসেবে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
গতকাল সোমবার অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকার ২০২০-২১ অর্থবছরে পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে এডিপির আওতায় বিশেষ প্রয়োজনে সহায়তা তহবিলে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন অর্থ বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ ব্যতিরেকে এই তহবিল বিতরণ করতে হবে না। তবে তহবিল বিতরণ স্থগিতাদেশ কখন থেকে কার্যকর হবে তা এতে উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া কেন এটি করা হয়েছে তাও উল্লেখ করা হয়নি।
নিয়ম অনুসারে, এত দিন পরিকল্পনামন্ত্রী নিজ ক্ষমতা বলে ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত প্রকল্প অনুমোদন নিতে পারতেন। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার পর চলতি অর্থবছরের জন্য তিনি আর কোনো প্রকল্প অনুমোদন দিতে পারবেন না। দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন হবে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, করোনার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ফলে রাজস্ব আয়ে ভাটা পড়েছে, কিন্তু সরকারের ব্যয় কমেনি। এজন্য সরকার বাধ্য হয়েই কৃচ্ছ্র সাধন নীতি গ্রহণ করেছে। হতে পারে এটি এর অংশ।
চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল। অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, কভিড-১৯ এর কারণে নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা কঠিন। এছাড়া বেশকিছু ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
