রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের পরিচালক ও চেয়ারম্যান পদে তিন বছরের জন্য নিয়োগ পেলেও পদ ধরে রাখতে পারেননি নিরীক্ষক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ। বিতর্কিত কর্মকা-ের অভিযোগের কারণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার জামালউদ্দিনকে তার পদ থেকে অপসারণ করেছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলা হয়নি। তারপরও তাকে সরিয়ে জনতা ব্যাংকের পর্ষদ পরিচালক ও চেয়ারম্যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এসএম মাহফুজুর রহমানকে তিন বছরের জন্য ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ব্যাংকিং বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, অনিয়ম, দুর্নীতি ছাড়াও গ্রাহকদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের পর জামালউদ্দিনকে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
গতকাল উপসচিব মো. জেহাদ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনতা ব্যাংকের পর্ষদ পরিচালক ও চেয়ারম্যান ড. জামালউদ্দিন আহমেদকে জনস্বার্থে ওই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওকে বলা হয়, পর্ষদের পরিচালক ও চেয়ারম্যান ড. এসএম মাহফুজুর রহমানকে তার যোগদানের দিন থেকে তিন বছর মেয়াদে নিয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এ বিধান মোতাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য অনুরোধ করা হলো।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. এসএম মাহফুজুর রহমান ২০১১ থেকে ’১৪ সাল পর্যন্ত ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যানেরও দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যাপক এসএম মাহফুজুর রহমান এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমি শুনেছি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আমাকে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছে। তবে নিয়োগপত্র এখনো হাতে পাইনি। পেলে যোগদান করব।’
অ্যাননটেক্স ও ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির কারণে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে জনতা ব্যাংক। বড় অঙ্কের মূলধন সংকটে থাকা ব্যাংকটিকে উদ্ধারে সরকার নতুন নতুন চেয়ারম্যান দিলেও কোনো উন্নতি ঘটছে না। বরং কোনো কোনো চেয়ারম্যান নিজেই জড়িয়ে পড়ছেন ঋণ অনিয়মে। তবে সবাই নির্ধারিত মেয়াদ শেষ করতে পারলেও নিয়োগের ১১ মাসের মাথায় জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে জামালউদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে দিল সরকার। জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন। ওই সময়েও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে।
জানা যায়, একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের ঋণ প্রস্তাবে জামালউদ্দিন আহমেদ নিজেই পরিচালক হিসেবে ছিলেন। এ নিয়ে আপত্তি উঠলে তিনি পরিচালক পদ থেকে সরে আসেন। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদকে ২০১৯ সালের ২০ আগস্ট তিন বছরের জন্য জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। সে হিসেবে তার চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট। কিন্তু নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
