বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নকল মাস্ক সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী শারমিন জাহানকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা মহানগর হাকিম শহীদুল ইসলাম আসামি পক্ষের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী শারমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত শনিবার তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। কিন্তু দুদিন জিজ্ঞাসাবাদ করেই প্রয়োজনীয় সব তথ্য পেয়ে যাওয়ায় তাকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিবি কর্মকর্তারা।
ডিবির রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মিশু বিশ্বাস গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা থাকলেও দুদিনের জিজ্ঞাসাবাদেই সব তথ্য পেয়েছি। তাই আজই শারমিনকে কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শারমিনের কাছ থেকে পাওয়া সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএসএমএমইউ-এর প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মোজাফ্ফর আহমেদ শাহবাগ থানায় শারমিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাকে গত শুক্রবার রাতে শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবির রমনা বিভাগের একটি দল। পরদিন শনিবার শারমিনকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি।
মামলার তদন্ত তদারককারী ও ডিবির রমনা বিভাগের উপকমিশনার আজিমুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই শারমিন তার দোষ স্বীকার করে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের কাছে লিখিত দিয়েছিলেন। তাই আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল না। তার কাছ থেকে যেসব তথ্য জানার দরকার ছিল সবই পাওয়ায় তাকে আদালতের কাছে পাঠানো হয়।’
এই ডিবি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘শারমিন তার কৃতকর্মের দোষ স্বীকারসহ জড়িত অনেকের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তার কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী বিএসএমএমইউতে নকল মাস্ক সরবরাহে অনেকেরই নাম পাওয়া গেছে, যাদের অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’
মামলার এজাহারের তথ্যানুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন-১ শাখায় সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত শারমিনের মালিকানাধীন অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল ২৭ জুন ১১ হাজার মাস্ক সরবরাহের কার্যাদেশ পায়। এই কার্যাদেশের বিপরীতে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল ৩০ জুন প্রথম দফায় ১৩০০, ২ জুলাই দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় ৪৬০ ও ১০০০ এবং চতুর্থ দফায় ৭০০ মাস্ক সরবরাহ করে। তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় পণ্য সামগ্রিক গুণগতমানের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়। কোনো কোনো ফেইস মাস্কের বন্ধনী ছিঁড়ে গেছে, কোনো মাস্কের ছাপানো ইংরেজিতে লেখা ‘ত্রুটিপূর্ণ’ পাওয়া গেছে। এ ধরনের ত্রুটিতে কর্র্তৃপক্ষ বুঝতে পারে, মাস্ক নিম্নমানের ছিল। ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ শারমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
