‘জালিয়াতির মাধ্যমে’ ঈশান চন্দ্রের পরিত্যক্ত সম্পত্তি দখলের চেষ্টা

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২০, ০৬:৩৭ এএম

ফরিদপুরের জমিদার ঈশান চন্দ্র দাস সরকারের পরিত্যক্ত কয়েকশ কোটি টাকার সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঈশান চন্দ্রের গোমস্তা ক্ষিতীশ চন্দ্রের ছেলে উজ্জ্বল সরকার এ সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন বলে সম্প্রতি দুদকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ফরিদপুর নিউ মার্কেটের ৯ ব্যবসায়ী। তবে উজ্জ্বলের দাবি, তিনি ঈশান সরকারের বৈধ ওয়ারিশ। একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ করছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈশান চন্দ্রের তিন ছেলে জ্যোতিশ চন্দ্র সরকার, ধীরেন্দ্রনাথ সরকার ও সুরেশ চন্দ্র সরকার এবং তার ভাই ইন্দুভূষণ সরকারের ছিল তিন ছেলে সত্যভূষণ সরকার, ভক্তিভূষণ সরকার, শক্তিভূষণ সরকার ও স্ত্রী নিলীমা সরকার। ১৯৬২ সালের মধ্যে তারা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। ২০১২ সালে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তি আইনের পর ঈশান চন্দ্রের উত্তরাধিকার দাবি করে সম্পত্তি অবমুক্তির আবেদন করেন তারই গোমস্তা ক্ষিতীশের ছেলে উজ্জ্বল। দাবির সপক্ষে তিনি ঈশান গোপালপুর ইউপির তৎকালীন চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান চৌধুরী পংকজ স্বাক্ষরিত একটি ওয়ারিশ সনদ দাখিল করেন। তাতে ঈশানের ছয় ছেলে উল্লেখ করা হয়। যাদের একজন উজ্জ্বলের বাবা ক্ষিতীশ।

ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মজনু বলেন, ‘ঈশান চন্দ্রের গোমস্তা ক্ষিতীশকে সন্তান সাজিয়ে পুরো সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে।’ তিনি জানান, আরএস ও সিএস খতিয়ানের রেকর্ডপত্র, দলিল দস্তাবেজ ও মামলার নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, সবখানেই ঈশান চন্দ্র সরকারের তিন ছেলে থাকার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। ফরিদপুর সদর মুনসেফ আদালতে ১৯৬১ সালের ১৬/৬১নং মামলায় দেখা যায়, ডিক্রিদার পক্ষ হিসেবেও রয়েছে এই তিন ছেলের নামই। এছাড়া ১৯৪৪ সালের জেলা রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের ঈশান চন্দ্রের ছেলেদের নামে তিনটি দলিল সম্পাদন হয় যেখানেও অন্য কারও নাম নেই। উজ্জ্বলকে উত্তরাধিকার সনদ দিয়েছেন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান চৌধুরী পংকজ। সেই সনদে বলা হয়েছে, ঈশানের ছয় ছেলে ছিলেন। তাদের একজন হলেন ক্ষিতীশ।

এ ব্যাপারে নুরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘ইউপি সদস্যরা প্রবীণ নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে যেই প্রতিবেদন দিয়েছিলেন সে পরিপ্রেক্ষিতে ওয়ারিশ সনদ দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে ভূমি অফিসে আমাদের তলব করেছিল তবে যারা ওই সনদ নিয়েছিলেন তারা হাজির হননি।’ নিজেকে ঈশান সরকারের ওয়ারিশ দাবি করে উজ্জ্বল বলেন, ‘একটি পক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ করছে। দানকৃত সম্পত্তিতে আমাদের কোনো দাবি নেই। বর্তমানে আমরা ছাড়া আর কোনো বৈধ ওয়ারিশও নেই ঈশান চন্দ্রের।’ ভূমি অফিসের শুনানিতে তিনি উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান।

ফরিদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ মো. সজীব জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে ঈশান বাবুর পারিবারিক জমিজমার দলিল থেকে দেখা যায় যারা বর্তমান ওই পরিবারের ওয়ারিশ দাবি করছে তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি আরও জানান, ফরিদপুর শহরের ১১৮ নম্বর মূল মৌজার ঝিলটুলী ও আলিপুর মহল্লার প্রায় ২০ একর জমিসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ঈশান পরিবারের ভূসম্পত্তি রয়েছে। এর বাইরে রাজেন্দ্র কলেজ, সদর হাসপাতাল, ঈশান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ফরিদপুর মিউজিয়াম, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়, জেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়, পাট কর্মকর্তার কার্যালয়, তিতুমীর বাজার, চকবাজার ও নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঈশান পরিবারের দান করা সম্পত্তিতে গড়ে উঠেছে বলে জানান এ ভূমি কর্মকর্তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত