টাকার বিনিময়ে সাতক্ষীরা যুবদলে প্রবাসীরা!

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২০, ০৬:৩৯ এএম

সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ দিতে আর্থিক অনিয়ম ও প্রবাসী নেতাদের জায়গা করে দেওয়াসহ ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদবঞ্চিত জেলা যুবদলের এক নেতা গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে এ অভিযোগ জানান। তিনি বলেন, প্রবাসীদের জেলা কমিটিতে রাখার বিধান নেই। কিন্তু বিগত ২০ বছর ধরে ইতালি প্রবাসী রবিউল ইসলামকে জেলা যুবদলের সহসভাপতি করা হয়েছে। এছাড়া ইতালি ও মালয়েশিয়া প্রবাসী আরও চারজনকে জেলা কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে। আর্থিক সুবিধা নিয়ে এসব প্রবাসীর জেলা কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা যুবদলের সভাপতি আবু জাহিদ ডাবলু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ত্যাগী নেতাদের পদ দেওয়া হয়েছে। কিছু বাদ পড়তে পারে। তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটির বৈঠকে কমিটিতে নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুকুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রবাসে থাকলেও তারা জেলা রাজনীতিতে অবদান রেখেছেন। তারা ছাত্রদলের সাবেক নেতা। পরে সরকারের হামলা-মামলার আসামি হওয়ায় নির্যাতনের ভয়ে দেশ ছেড়েছে। মাঝেমধ্যে দেশে আসেন তারা।

জেলা যুবদলের সম্পাদকের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রবাসীদের জেলা কমিটিতে পদ দেওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন। কেউ অভিযোগ দিলে তা খতিয়ে দেখা হবে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রবাসীদের জেলা কমিটিতে রাখা যাবে না এমন কোনো বিধান গঠনতন্ত্রে নেই। তবে যেহেতু আমরা এখন বিরোধী রাজনীতি করছি তাই আন্দোলন সংগ্রাম সফল করতে হলে জেলায় থাকে এমন নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠনের বিষয়ে মৌখিকভাবে নির্দেশনা আছে। ইতিপূর্বে দুয়েকটি জেলায় জেলা যুবদলের কমিটিতে প্রবাসীদের রাখার অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছিল। সেগুলো আমরা বাদ দিয়ে দিয়েছি। আগামীতে কেউ এমন অভিযোগ নিয়ে এলে এবং তা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ২৩ জুলাই আবু জাহিদ ডাবলুকে সভাপতি, এইচ আর মুকুলকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৭১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটি অনুমোদন করেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। জেলা যুবদলের নেতাদের অভিযোগ, ২০ বছর ইতালি প্রবাসী রবিউল ইসলামকে ৫নং সহসভাপতি, ১০ বছর ধরে ইতালি প্রবাসী মাহবুবুর রহমান মন্টুকে ২৫নং যুগ্ম সম্পাদক, ১৮ বছর ধরে ইতালি প্রবাসী হযরত আলীকে ২৭নং যুগ্ম সম্পাদক, ১০ বছর ধরে ইতালি প্রবাসী মাসুদুল আলম কাজলকে ৪৫নং যুগ্ম সম্পাদক ও ১০ বছর ধরে মালয়েশিয়া প্রবাসী জোয়ার্দ্দার ফারুক হোসেনকে ৭২নং যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে।

জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলাম নান্টা দেশ রূপান্তরকে বলেন, জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ২১ জন প্রবাসী, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যুবদল ছেড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও তরুণ লীগে যোগ দেওয়া ছয় থেকে সাতজনকে যুবদলের পদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরা সদর থানার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম জিয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তার মতো ত্যাগী নেতাকে জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ দেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা যুবদলের পদবঞ্চিত এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে না জানিয়ে কিংবা ভুল বুঝিয়ে জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পাঁচজন প্রবাসীকে জেলা যুবদলের পদ দিয়েছেন। প্রবাসী এসব নেতার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে পদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রবাসীদের জেলা যুবদলের কমিটিতে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে প্রবাসী নেতাদের পদ দেওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। কীভাবে তারা জেলা কমিটিতে পদ পেলেন তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা যখন যুবদলের দায়িত্বে ছিলাম তখন এমনটা দেখা যায়নি। যারা জেলার রাজনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন না তাদের কী করে পদ দেওয়া হয়। বিষয়টি যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের খতিয়ে দেখা উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত