‘আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পে’র মেয়াদ আবারও বাড়ল

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২০, ০৭:৪৪ এএম

ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজের টাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এভাবে দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি টাকায় চলতে দেওয়া যায় না। তাদের স্বাবলম্বী হতে হবে। নিজের টাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

গণভবন থেকে একনেকের ভার্চুয়াল সভায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো স্ব-শাসিত। নিজেদের আইনে চলে। জনগণকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। সেখান থেকে নিশ্চয়ই তাদের আয় হয়। নিজেদের আয়েই তাদের চলা উচিত। একনেকপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে টাকা দেওয়া ঠিক হবে না। স্বাধীন হলে স্বাবলম্বী হতে হবে এসব প্রতিষ্ঠানকে। সেজন্য কী উপায়ে আয় বাড়ানো যায়, এখন থেকে চিন্তা করতে হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীন নয় বলে অনেকে সমালোচনা করেন। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সরকার থেকে টাকা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। তাদের স্বাধীন হতে হলে সরকার থেকে টাকা নেওয়া বন্ধ করতে হবে। রাজশাহী মহানগরীতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন শিরোনামের দুটি প্রকল্প অনুমোদন করতে গিয়ে গতকাল একনেক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

একনেক সভায় ২ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট’ শিরোনামের আরেকটি প্রকল্প অনুমোদনকালে মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়হীনতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ২০১৫ সালে সরকার উত্তরের গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী, মধ্যাঞ্চলের জামালপুর, ময়মনসিংহ এবং শেরপুর এই ৭ জেলার ৪৩ উপজেলায় ৬ লাখ গর্ভবতী নারী বাছাই করে তাদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য নগদ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর অংশ হিসেবে ওই বছরের এপ্রিলে একনেক সভায় ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট (আইএসপিপি) শিরোনামের প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয় ২ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক ২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। বাকি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়ার কথা।

২০১৮ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কথা ছিল স্থানীয় সরকার বিভাগের। কিন্তু ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও ছয় লাখ গর্ভবতী নারী বাছাই করতে পারেনি স্থানীয় সরকার বিভাগ। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্বব্যাংক এখন তাদের প্রতিশ্রুত ২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা থেকে ৫ কোটি ডলার বা ৪২৫ কোটি টাকা সরিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য খরচের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকালের সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করতে পারত। কারণ, সারা দেশেই তারা নারী ও শিশু নিয়ে কাজ করে। তাদের কাছে দরিদ্র নারীদের তালিকা আছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের এই ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা নেই। স্থানীয় সরকার বিভাগ চাইলে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নিতে পারত। তাহলে প্রকল্পটি এতদিনে শেষ হয়ে যেত। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেক মন্ত্রণালয়ের কাজের সমন্বয়হীনতা রয়েছে। সমন্বয় থাকলে কাজে গতি আসে। সরকারি টাকা অপচয় হয় না। এই প্রকল্পের আওতায় ছয় লাখ দরিদ্র গর্ভবতীর তালিকা করার কথা ছিল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)। কিন্তু সরকারি সংস্থাটি তালিকা করতে পারেনি। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তালিকা করতে ব্যর্থ বিবিএস। খবর নেব, কেন তারা তালিকাটা করতে পারেনি।

এদিকে আরও এক বছর মেয়াদ বেড়েছে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের’। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ চার দফায় বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে প্রকল্প ব্যয় কমেছে ১২৫ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে প্রকল্পটি যখন প্রথম অনুমোদন দেওয়া হয়, তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। এরপর তিন ধাপে ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পের ব্যয় ৮ হাজার ১০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। গতকালের সভায় ১২৫ কোটি টাকা খরচ কমিয়ে ৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রকল্পটি চিরদিনের জন্য নয়। সুফলভোগীদের স্বাবলম্বী করতে হবে। ক্ষুদ্রঋণ মানুষকে পুরোপুরি স্বাবলম্বী করে না। এজন্য সঞ্চয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পটির চতুর্থ সংশোধনী প্রস্তাবসহ একনেক সভায় মোট সাত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ১৩৩ কোটি এবং বিদেশি ঋণ থেকে ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত